manobkantha

ভাস্কর্য বিতর্কের অবসান হোক

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে সেটার নির্মাণ কাজ বন্ধ এবং নির্মিত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ধর্মভিত্তিক কিছু সংগঠনের কয়েকজন নেতা। এই নেতাদের মধ্যে আছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই, খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, মুফতি নূর হোসেইন নূরানি গং। সম্প্রতি রাজধানীর পৃথক স্থানের একাধিক কর্মসূচিতে তারা এই দাবি ও হুমকি দিয়েছেন।

তাদের ওই দাবি ও হুমকি তারা একবারমাত্র দিয়েই ক্ষান্ত হননি, এটা বারবার বলছেন এবং এই ভাস্কর্য ইস্যুতে মাঠ গরমের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তারা তাদের একাধিক বক্তৃতায় বলেছেন, যেকোনো মূল্যে তারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য রাখবেন না। এ জন্য তারা পূর্বের নানা ঘটনার উল্লেখ করে বলছেন, আগেও তারা ভেঙেছেন, আবারও ভাঙবেন, বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেবেন।

এ বক্তব্যের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উষ্ণ হতে শুরু করেছে। ঢাকায় গত শুক্রবার জুমা শেষে একাধিক ইসলামিক সংগঠন মিছিল করতে চাইলেও পুলিশ তা করতে দেয়নি। চট্টগ্রামেও হেফাজতে ইসলামকে বাধা দিয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ। অন্যদিকে ইসলামিক দলগুলোর নেতাদের এই বক্তব্যের পরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সা¤প্রদায়িক গোষ্ঠী যে অনাহূত বিতর্কের সৃষ্টি করছে- তার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সা¤প্রদায়িক গোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, যারা ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্য বোঝে না তারাই এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গত ২৭ নভেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারা অচিরেই ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্য বুঝবে।

কিন্তু বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘আমাদের এমন স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থাকার পরও লক্ষ করছি, একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে (ব্যক্তি মামুনুল হককে) সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আর এ জন্য জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অমূলক ও কল্পিত অভিযোগ আমার ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

গত ২৯ নভেম্বর রবিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মামুনুল হক। গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় ভাস্কর্য বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘ভাস্কর্য আর মূর্তি এক জিনিস নয়। পাকিস্তানে যান, ভারতে যান, সারা বিশ্বে যেকোনো রাষ্ট্রে যান না কেন, সব জায়গায় ভাস্কর্য আছে। ভাস্কর্য যদি মূর্তি হয়, তাহলে টাকার ভেতর বঙ্গবন্ধুর ছবি আছে, আগে যারা ছিলেন তাদের ছবি ছিল, সেগুলো পকেটে নিয়ে তো সবাই ঘুরে বেড়ায়।

ভাস্কর্য আর মূর্তি নিয়ে ‘বোঝার ভুল’ আছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মিসরে গিয়ে দেখেছি, সৌদি আরবেও আছে। বাংলাদেশে যারা এটা নিয়ে আলোচনা করছে, তাদের চিন্তা করতে হবে যে, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়।’ এ বিষয়গুলো সবাইকে বোঝাতে পারলে একটা সমাধান আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আমরা মনে করি, এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য সব ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাদের এবং দেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও ওলামা-মাশায়েকদের ডেকে আলোচনায় বসে বিষয়টির সমাধান করা জরুরি- জনগণের সঙ্গে আমরা এ প্রত্যাশা করি।