manobkantha

স্বাস্থ্যবিধি ভাঙছেন রাজনীতিকরা

এমনও দেখা গেছে, করোনা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে গিয়েই রাজনীতিক নেতা-কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে উল্টো করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছেন। গতকাল দৈনিক মানবকণ্ঠে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

রাজনীতিবিদরা সমাজের অভিভাবক। বিশেষত যেসব রাজনীতিক জনপ্রতিনিধিও তাদের দায় অনেক বেশি। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তায় স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও রাজনীতিবিদরা তাদেরও দেখাশোনা করেন, সেখানে সংকট থাকলে সে বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করেন। দেশের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে রাজনীতিবিদরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে চলমান করোনাকালে রাজনীতিবিদরাই স্বাস্থ্যবিধি ভাঙার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের অবাধ গতিবিধি সে কথাই মনে করিয়ে দেয়।

এমনও দেখা গেছে, করোনা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে গিয়েই রাজনীতিক নেতা-কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে উল্টো করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছেন। গতকাল দৈনিক মানবকণ্ঠে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধনে তাদের এই অসচেতনতার বিষয়টি প্রায়ই চোখে পড়ছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমান তালে চলছে স্বাস্থ্যবিধি না-মানার এই ‘প্রতিযোগিতা’।

করোনা সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহারের ওপর সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও আলোচনা সভা, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ অনুষ্ঠান-কর্মসূচিগুলোতে বেশির ভাগ লোক তা মানছেন না। কেউ কেউ মাস্ক পরলেও তা থুতনিতে রেখে দেন। অনেককে আবার মাস্ক হাতে নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি খাত। আমাদের দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতেই সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত হু হু করে বাড়ছে। শীতে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ব্যাপক হারে বাড়তে পারে বলে আগে থেকেই শঙ্কা করা হয়েছিল।

কিন্তু শীত নামার আগেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিনই গাণিতিক হারে বাড়ছে সংক্রমণের হার। আর এ জন্য মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অথচ স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সরকারি সংস্থাগুলোর বাইরে যাদের এ বিষয়ে সবচেয়ে সচেতন ভ‚মিকা নেয়ার কথা, সেই রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মাধ্যমেই উল্টো করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। করোনা সংক্রমণের প্রথম দিকে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষদের সচেতনতার কাজ করলেও এখন আর তাদের দেখা যায় না। কারো মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই নেই! বেশির ভাগ লোক মাস্কও ব্যবহার করছে না। জিজ্ঞেস করলে নানা ধরনের অজুহাত দিচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নামানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রশাসন এত দিন আইনের যথাযথ প্রয়োগের দিকটি গুরুত্ব না দেয়ায় করোনার ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণ করে থাকে। নেতাদের মধ্যে সতর্কতা না থাকলে কর্মীর মধ্যে দেখা যাবে না- এটাই বাস্তবতা। সরকার মানুষকে করোনা নিয়ে অনেকভাবেই সতর্ক করছে। অথচ নেতাদের মাঝে এর প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঘোষণা দিলে কমপক্ষে তার দলের কর্মীরা মাস্ক পরত। তাও হয়নি, হচ্ছে না। তাহলে মানুষের ভরসার জায়গাটা কোথায়?

যেখানে চিকিৎসকরা একযোগে ঘোষণা করেছেন, একমাত্র মাস্কই পারে এই সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে, সেখানে সমাজের অভিভাবকদের কাছ থেকে অন্তত এ ধরনের অসচেতনতা প্রত্যাশা করা যায় না। আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষের যেমন মাস্ক পরা ছাড়া গত্যন্তর নেই, তেমনি রাজনীতিবিদদেরও জনগণ ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। করোনা প্রতিরোধে এর বিকল্প নেই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে