manobkantha

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সংসদের ‘বিশেষ অধিবেশন’ বসল

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উপলক্ষ্যে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ৬টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবন জুড়ে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্বে সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে; তিনিই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জিতে হয়েছিলেন দেশের প্রথম সংসদ নেতা। সেই পথে ধরে জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীতে বসছে একাদশ সংসদের বিশেষ অধিবেশন। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সেই অবিসংবাদিত নেতাকে স্মরণ করা।

দেশের ইতিহাসের প্রথমবারের মতো ‘বিশেষ অধিবেশনে’ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনের যখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তখন সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধুরই মেয়ে শেখ হাসিনা।

অধিবেশনের শুরুতে হেমন্তের সকালে সকল সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানিয়ে স্পিকার বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ-২০২০) উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেছে।

সোমবার থেকে বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। যা আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মূল্যবান ভাষণ দিবেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনীর উপর সংসদ সদস্যরা আলোচনা করবেন। তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশ মতো অধিবেশন কক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টানানো হয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশন পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অধিবেশনে ৬ জন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। তারা হলেন- সাবেক গণপরিষদ সদস্য সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, নুরুল ইসলাম, খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল ও শামছুল হক তালুকদার ছানু।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, হেফাজতে ইসলামের আমির অল্লামা শাহ আহমদ শফী, একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রশীদ হায়দার, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি আবুল হাসনাতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

এছাড়াও প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যে সব চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন, পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীরা মৃত্যুবরণ করেছেন- তাদের মৃত্যুতে এ সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এসকে