manobkantha

রিফাত হত্যায় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের রায় মঙ্গলবার

বরগুনার রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যায় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের রায় হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ওইদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ হত্যাকাণ্ডে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের রায়ে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। এ ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন মিন্নি।

এদিকে, গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।

৭৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের পর ৬৩ কার্যদিবসে এর বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর বরগুনা শিশু আদালত রায়ের দিন ধার্য করে।

সরকার পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানিয়েছেন, মামলার ১৪ আসামির মধ্যে সাত আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তারা সাক্ষীর মাধ্যমে অভিযোগ ‘প্রমাণ করতে পেরেছেন দাবি করে তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী নারগিস পারভীন সুরমা জানিয়েছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা নির্দোষ। তারা বেকসুর খালাশ পাবেন বলে আশা করছিন তিনি।

রিফাত হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মধ্যে আটজন জামিনে এবং ছয়জন কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে রয়েছেন।

প্রাপ্তবয়স্ক ছয় আসামির ফাঁসির রায়ের প্রসঙ্গ টেনে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদেরও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনার কলেজ রোড এলাকায় দিনের বেলা কয়েকজন যুবক রিফাত শরীফের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। রিফাত শরীফের সাথে তখন তার স্ত্রী মিন্নি ছিলেন। পরে তাকেও আসামি করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয় দিন পর গত বছরের পহেলা সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির ২৪ জনকে আসামিকে প্রাপ্ত এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত করে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে দুইটি পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

তাতে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।