manobkantha

চালচোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি

চালচোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি

দেশে করোনাকালীন যে সময় চলছে সেটা কারো অজানা নয়। মানুষের সংকট লেগেই আছে। কলকারখানা, দোকানপাট বন্ধ হয়েছে অনেক। শিক্ষালয়ের অবস্থা আরও করুণ। বিশেষত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেগুলো, সেগুলোর শিক্ষকদের বড় একটা অংশ পেশাবদল করেছে অভাবে। এ সময় দ্রব্যমূল্যও বেড়েছে। মানুষের অসহায়ত্বের কথা বলে শেষ করা যাবে না।

এ সময় সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রির জন্য দিয়েছে অসহায় মানুষের হতোদ্যম অবস্থার জন্য। কিন্তু যারা মনিটরিং করার দায়িত্বে, তাদের যোগসাজশেই বস্তা বদল করে রাতারাতি সরকারি কম মূল্যে বিক্রির এই খাদ্যপণ্য চলে যাচ্ছে আড়তদারের ঘরে। মাঝখানে সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে ঢুকছে লাখ লাখ টাকার কমিশন। এভাবে গরিবের চাল, আটা লুটপাটের ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে খোদ রাজধানীতে। খাদ্য অধিদফতরের আওতায় ১২০টি পয়েন্টে প্রতিদিন অবাধে এই দুর্নীতি-লুটপাট চলছে। গতকাল একটি দৈনিকে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, এভাবে ওএমএস-এর চাল চোরাই পথে বাজারে চলে আসার কারণে সরকার বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে চোরাকারবারিদের হাত ঘুরে আসা ওএমএসের চাল সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে।

সঙ্গত কারণে ওএমএস কর্মসূচি কার্যত কাজে আসছে না। সম্প্রতি চাল ও আটাবোঝাই ট্রাক খোলাবাজারে বিক্রি করতে দেখা গেছে। নিয়মানুযায়ী সম্পূর্ণ চাল ও আটা বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত নতুন ট্রাক আসার কথা নয়। কিন্তু হচ্ছে এর উল্টো। প্রায় প্রতিদিনই সরকারি গুদাম থেকে ট্রাকভর্তি চাল আসছে। বাস্তবে এক কেজি চাল বিক্রি না হলেও খাতা-কলমে দেখানো হচ্ছে ‘পুরোটাই বিক্রি’। দিনের বেলা বিভিন্ন রেশনিং পয়েন্ট থেকে ছোট ও মাঝারি ধরনের ট্রাকে করে ওএমএস চাল ও আটা আনা হয় নির্ধারিত কিছু গোডাউনে। সেখানে দ্রæত বস্তা বদলের কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পর এসব খাদ্যপণ্য দেশের বিভিন্ন রুটে বড় ট্রাকে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

এরাই মূলত রেশনিং পয়েন্ট থেকে খাদ্যপণ্য আনার আগে খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছে নগদ অর্থ নিয়ে ধরনা দিয়ে থাকে। ওএমএস চাল ও আটা কেনা নিয়ে এদের মধ্যে কয়েকটি গ্রæপও তৈরি হয়েছে। খাদ্য অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সরকারি খাদ্যপণ্যের চোরাকারবারে জড়িত। সংশ্লিষ্ট রেশনিং এলাকার এআরও (সহকারী রেশনিং কর্মকর্তা), তদারক এবং গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ রয়েছে। চোরচক্রের সদস্যরা প্রশ্রয় পাচ্ছে ঢাকা রেশনিংয়ের এক কর্তাব্যক্তির কাছে। তার বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে বিপুল অঙ্কের টাকা পাচারের লিখিত অভিযোগ স¤প্রতি জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনেও। ওএমএস’র চাল চুরির ব্যাপারে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক যদিও বলেছেন, ‘কাউকে ছাড়া হবে না। প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাল ও আটা বিক্রির সেলস পয়েন্টগুলো নির্ধারণ করার সময়ই দুর্নীতির ফাঁক রাখা হয়। ডিলারদের অবাধ চুরির সুযোগ করে দেয়ার বিনিময়ে দৈনিকভিত্তিক ঘুষ নেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উভয়পক্ষ সুবিধাভোগী হওয়ায় এসব দুর্নীতির কোনো প্রমাণ থাকে না।

দেশের প্রতিটি স্তরে যদি পরিস্থিতি এমন যে, বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির চাল ও আটা সাধারণত অভাবে থাকা মানুষদের জন্য এক ধরনের প্রণোদনা বলা যায়। ক্ষুধার্ত মানুষের খাবার কেড়ে, তা খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়ে বিত্তের পাহাড় গড়ছে সংশ্লিষ্ট এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। আমরা মনে করি এ গণশত্রæদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া জরুরি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে