manobkantha

ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করেও স্বস্তিতে নেই জালিয়াত চক্র

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াত চক্রের অনেকেই এখন লাপাত্তা। কমিশনলোভী মধ্যস্বত্বভোগী এই ব্যক্তিরা গা ঢাকা দেয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ পালিয়ে বিদেশ চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এর মধ্যে ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা এসব ঋণ দেয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শুধু তা-ই নয়, খিলক্ষেত শাখায় ভুয়া দলিলপত্রে দেয়া শত শত কোটি টাকার এসব ঋণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে অন্যকে দোষারাপ করছেন।

এদিকে ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখার বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সারা দেশের গ্রাহকরা। এই এক শাখার জন্য গোটা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে কি নাÑএ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঋণ জালিয়াত চক্র পুরো ব্যাংকটি গ্রাস করে এর ভিত্তি নড়বড়ে করে দিয়েছে। এই চক্রে বাইরের একটি দলিল জালিয়াত গ্রুপের সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন শাখার ম্যানেজার, সেকেন্ড ম্যানেজার এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তা। বাইরের চক্রের কাজ হচ্ছে বড় ঋণ গ্রহীতা সাজিয়ে ভুয়া লোকজনকে নিয়ে আসা এবং জাল দলিলাদিসহ ঋণ ডকুমেন্ট তৈরি করে দেয়া। সবশেষে এই ঋণ পাস করিয়ে কমিশন ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া।

সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন সময়ে ঋণ অনুমোদনের পর এই চক্রের সদস্যরা বিদেশে গিয়ে আনন্দ-ফুর্তি করেছেন। ব্যাংকের দায়িত্বশীল অনেক কর্মকর্তা এর মধ্যে রয়েছেন। ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন শাখার এসব কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে পালানোর চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হলেই তারা চাকরি ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে রহস্যজনক কারণে এই চক্রটিকে ধরার ব্যাপারে খুব একটা উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা মানবকণ্ঠকে জানান, ঋণ জালিয়াত চক্রটি ইতোমধ্যে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে ফেলেছে।