manobkantha

পথশিশুদের জীবন-যুদ্ধে রাবির 'স্বপ্ন-ফেরি'

রাবি

মিনহাজ আবেদিন, রাবি : পিতৃ-পরিচয় ও সামাজিক হীনমন্যতার কারণে পথশিশুরা আমাদের সমাজে বেড়ে উঠছে অযত্নে-অবহেলায়। এদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন নগরীর রাস্তা, রেলস্টেশন, ফুটপাত, বস্তির নোংরা গলির মধ্যে রাত কাটাচ্ছে। এদের কারো বাবা নেই, কারো মা নেই, কেউবা জন্মের পর নাম-পরিচয় ছাড়াই বড় হয়ে ওঠে। পেটের জ্বালা নিবারণের জন্য কেউ ইট ভাটায় কাজ করে, কেউ গাড়ির হেল্পারি করে, কেউ ভিক্ষা করে আবার কেউ চুরি-ছিনতাই এর মত অনৈতিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়। চোরাচালান ও মাদক বিক্রিসহ সমাজবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপে পথশিশুরা ব্যবহৃত হচ্ছে এখনও।

এই শিশুরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ন্যূনতম অধিকার থেকে, তেমনি বঞ্চিত হচ্ছে বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ থেকে। সমাজে বিক্ষিপ্তভাবে বেড়ে ওঠা এসব পথশিশুদের অধিকার আদায়, সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম দুখু 'মানবতার আলোকচ্ছটায় আলোকিত হোক ভুবন' এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩০জন সদস্য নিয়ে 'স্বপ্ন-ফেরি' নামে একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন তৈরি করেন। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য তিনশতাধিক।

সংগঠনটি শিশুদের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী, চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিয়মিত খাবার বিতরণ, বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুরক্ষাসামগ্রী, উপহারসহ করোনাকালে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে লিফলেট, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নানা উপকরণ বিতরণ করে আসছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় উৎসবে এসব শিশুদের সাথে আনন্দঘন মুহূর্তও কাটান সংগঠনটির সদস্যরা। সেই সাথে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজনও করে সংগঠনটি। এই কার্যক্রম বর্তমানে রাজশাহী জেলাতে চলছে তবে সারা বাংলাদেশে এসব পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।

সংগঠনটির সভাপতি খাইরুল ইসলাম দুখু বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই শিশুরাও চায় মানুষের মতো মানুষ হতে। ঠিক এই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছি আমরা। সমাজে এরা লেখাপড়া, নাগরিক অধিকার, জন্মনিবন্ধন তালিকা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাচ্ছে না সঠিক পথের সন্ধান ও সুযোগ। তাদেরকে সেই সঠিক পথের সন্ধান দিতে আমি 'স্বপ্ন-ফেরি' গঠন করি।

এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিক্ষা পরিচর্যা, সামাজিক সুবিধা, প্রতিবন্ধী শিশুদের শুশ্রুষা, স্নেহময়, স্বাধীন, মুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু আর স্বাভাবিকতা বিকাশে কাজ করে চলেছে আমাদের 'স্বপ্ন-ফেরি' সংগঠন। রক্ষা করছে অবজ্ঞা, নিষ্ঠুরতা এবং শোষণের হাত থেকে। 

'স্বপ্নফেরি' নিয়ে দুখু তার পরিকল্পনাও জানান। তিনি বলেন, আমাদের ইচ্ছা এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে সপ্তাহে ৭ দিনই পাঠদান চলবে । থাকবে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী যেখানে পড়াশোনার সুযোগ পাবে তারা। করোনার আগে সপ্তাহে ৩ দিন তাদের পাঠদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। অসহায় মানুষদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।

তিনি আরও জানান, স্বপ্ন-ফেরিকে পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা চলছে। করোনার কারণে সেই কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে রাজশাহী কলেজে 'স্বপ্ন-ফেরি'র শাখা গঠন করা হয়েছে। শীঘ্রই পরিকল্পনা মোতাবেক স্বপ্ন-ফেরি'র সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাবে এবং পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে