manobkantha

প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ ১১ ব্যাংক

ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১১টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ১০ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, বেসিক ও অগ্রণী ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপির পরিমাণ ৯৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। আলোচিত সময়ে সরকারি চার ব্যাংকের ঘাটতি ছয় হাজার ১৩ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি সোনালী ব্যাংকের।

জুন শেষে সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি তিন হাজার ৩১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ৯২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৮৯২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি ৮৮৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

বেসরকারি খাতের সাত ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি চার হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভিশন ঘাটতি ন্যাশনাল ব্যাংকের। জুন শেষে ব্যাংকটির ঘাটতি এক হাজার ৬৯৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এবি ব্যাংকের এক হাজার ২১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৫৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংকের ২০৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ২৪৪ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১৯৮ কোটি টাকা এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৪১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে বেশ কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত (উদ্বৃত্ত) অর্থ নিরাপত্তা সঞ্চিতি হিসাবে রাখায় সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন মতে, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৬৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৬০ হাজার ৯০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে মোট নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা।