manobkantha

বাজেটে বাড়তে পারে কথা বলার খরচ

বাজেটে বাড়তে পারে কথা বলার খরচ
বাজেটে বাড়তে পারে কথা বলার খরচ

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে আবার টেলিকম খাতে ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে অপারেটর ও গ্রাহক মহলে। 

কারণ বাজেটে মোবাইলে কথা বলার উপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা বাড়লেও বেড়ে যাবে গ্রাহকের খরচ। এ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব মুঠোফোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এই সময়ে টেলিকম খাতের ব্যবসা ভালোই হয়েছে। ঘরবন্দি থাকায় যেমন মানুষের মোবাইলে কথা বলা বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি বেড়েছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। তাই দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে টেলিকম খাতে শুল্ক আরোপের চিন্তা ভাবনা করছে এনবিআর। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে কল রেট।

বর্তমানে দেশে টেলিকম খাতগুলোকে কল রেটের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় সরকারকে। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। যাতে এই সংকটাকালে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

সম্পূরক শুল্ক ছাড়াও বর্তমানে মোবাইল অপারেটরগুলোকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১ শতাংশ সারচার্জ এবং অন্যান্য শুল্ক মিলে মোট ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভ্যাট শুল্ক প্রদান করতে হয় সরকারকে। অর্থাৎ গ্রাহকরা ১০০ টাকার কথা বললে ২৭ দশমিক ৭৭ টাকা কেটে নেওয়া হয় ভ্যাট ও শুল্ক হিসেবে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে টেলিকম খাতে আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ছিল ৫ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে করা হয় ১০ শতাংশ। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে গতবছরই গ্রাহকদের মোবাইল কল রেট বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবারের বাজেটে ফের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হলে কথা বলার খরচ আরো বাড়বে।

রবি'র হেড অব রেগুলেটারি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম বলেন, গ্রাহকের ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্য থেকে নানাভাবে ৫৩ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। ইতিমধ্যে করভারে জর্জরিত এই সেবা। যদিও আবারও কর আরোপ করা হয় তাহলে গ্রাহকের ব্যয় বাড়বে এবং দুর্দশাও বাড়বে।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটারি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, এই সংকটকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম খাতে কর আরোপ কাম্য নয়।

করোনায় ব্যবসা বাণিজ্য থেকে চিকিৎসা সেবা- সবকিছুই ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কর আরোপের বিষয়ে অপারেটরদের মতামত নেয়া উচিত বলে মনে করেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, ট্যাক্স বাড়িয়ে দিলে যদি আমার কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়; তাহলে সেটা-তো অর্থনীতিকে বহন করতে হয়।

দেশে ১৬ কোটি ৬১ লাখ মোবাইল গ্রাহকের প্রায় ১০ কোটি গ্রাহকই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। বর্তমানে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয় গ্রাহকদের। কথা বলা ও ক্ষুদে বার্তায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সারচার্জ পরিশোধ করতে হয় ১ শতাংশ হারে।

 

দেখুন: