৯ বছরে পায়রা বন্দরে পৌনে ৬০০ কোটি আয়


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:৫৯

প্রতিষ্ঠার পর পায়রা বন্দরে এই পর্যন্ত (৯ অর্থ বছরে) অনুদান ও রাজস্ব বাজেটের আওতায় মোট ব্যয় করা হয়েছে ৬৭৬ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা। এই টাকার সিংহভাগ মূলত রাজস্ব খাতের অবকাঠামো নির্মাণ/উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত মোট ৮৯০টি (২৪৬টি বৈদেশিক ও ৬৪৪টি দেশীয়) জাহাজ বন্দরে আগমন করে, যার ফল শ্রুতিতে সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয় ৫৮১ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা।

রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৪৮তম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সংসদীয় কমিটি পায়রা বন্দর স্থাপন এবং চালু করতে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে এবং এর বিপরীতে কতটুকু অর্জন হয়েছে তা কমিটিকে জানানোর সুপারিশ করেছি। এরই প্রেক্ষিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানায়।

কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তমের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মাহফুজুর রহমান, এম আব্দুল লতিফ, ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর এবং এসএম শাহজাদা বৈঠকে অংশ নেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিব, পায়রা বন্দর কতৃর্পক্ষের চেয়ারম্যান, নৌ পরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন
বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫,২২৮ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ (Capital Investment) করা হয়েছে। উক্ত অর্থের মধ্যে মোট ১,৭৮৯ দশমিক ১৪ কোটি টাকা ৫,৩৯০ একর ভূসম্পত্তি অর্জনের জন্য ব্যয় করা হয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় তিনগুন। দীর্ঘ মেয়াদে বরাদ্দের এই ভূসম্পত্তির মূল্য আরো বহুগুন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

তাছাড়া, প্রায় ৩৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুর্নবাসন ও প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় হয়েছে ৯০৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২,৫৩৪ দশমিক ৪৫ কোটি টাকার মধ্যে ৫ দশমিক ২০ কি.মি. দীর্ঘ ৪ লেন সংযোগ সড়ক নির্মাণ বাবদ ৩০৫ দশমিক ৭১ কোটি টাকা ব্যয় হয় যা বন্দরসহ স্থানীয় সকল জনসাধারণ কর্তৃক ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮টি সহায়ক জলযান ক্রয় বাবদ ২৮০ দশমিক ৭৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয় যা প্রতিনিয়ত ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে।

বাকি ১,৯৪৭ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা ক্যাপিটাল ও মেইনটিনেন্স ড্রেজিং এবং মূল বন্দরের টার্মিনাল, ইয়ার্ড, সার্ভিস জেটি, ওয়্যারহাউজ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করা হয়েছে যা নির্মাণ শেষে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদি বন্দর ভিত্তিক উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় অর্জন করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল হতে ঢাকা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নৌপথকে নিয়মিত ড্রেজিং করে ড্রাফটের লাইটার জাহাজ চলাচলের উপযোগীকরণের মাধ্যমে বন্দর হতে ঢাকা, মুক্তারপুর, পানগাঁও ও আশুগঞ্জ কন্টেইনার ডিপোসহ সমগ্র বাংলাদেশের সাথে সংযোগ স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।


poisha bazar