‘২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ১৭% এলাকা তলিয়ে যাবে’


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:৪৯

বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘটে বৈশ্বিক নেতাদের কাছে সবচেয়ে ক্ষতিকর দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। বিশ্বনেতারা এ ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর কথা শুনবেন বলেও দাবি তাদের।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট ২০২২’ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ’ আয়োজিত ধর্মঘটে তারা এ দাবি জানান। অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশেরও কম অবদান রাখা সত্ত্বেও ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তারা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এতে প্রাণঘাতী দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, খরা, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১৭% এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। এর ফলে দেশের দুই কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে। এছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ২৭ শতাংশ মানুষ বর্তমানে বন্যার ঝুঁকিতে আছে। চলতি শতাব্দীতে উপকূলীয় বন্যার এ ঝুঁকি বেড়ে ৩৫ শতাংশ হতে পারে। বর্তমানে বন্যায় উপকূলীয় এলাকায় বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি হয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ।’

পরিবেশ ও জলবায়ুকর্মী এবং সেইভ ফিউচার বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান। বর্তমানে আমরা মহাসংকটের মধ্যে রয়েছি, যেটা জলবায়ু সংকট। বিশ্বনেতারা জরুরিভাবে জলবায়ু পদক্ষেপ না নিয়ে সময় অপচয় করে জলবায়ু সংকট দীর্ঘ করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত ২০ বছরে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি পরিবারের গড়ে চার লাখ ৬২ হাজার ৪৯১ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির অর্থ চাই এখনই। আমরা জলবায়ু পদক্ষেপ ও জলবায়ু সুবিচার চাই।

ধর্মঘটে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে বলা হয়, প্রথমত বিশ্ব নেতাদের কাছে দাবি, আমরা জলবায়ু পদক্ষেপ ও জলবায়ু সুবিচার চাই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির অর্থ আমাদের দিতে হবে। প্যারিস এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে নামিয়ে আনতে হবে। কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে।

সরকারের কাছে তাদের দাবি, জলবায়ু শরণার্থীদের টেকসই পুর্নবাসন করতে হবে। সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান করতে হবে। অভিযোজন প্রক্রিয়া বাড়াতে হবে। উপকূলজুড়ে টেকসই ব্লক বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। কয়লা না, নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে অগ্রসর হতে হবে। পাঠ্যবইয়ে জলবায়ু-পরিবেশ শিক্ষা যুক্ত করতে হবে।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে। শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধ করতে হবে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে সেসব প্রকল্প এবং পরিবেশ দূষণকারী কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দেশের পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল, গাছ-পালা, বন্যপ্রাণী এবং নদী, জলাশয় রক্ষা করতে হবে। সর্বোপরি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে ও পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

পরিবেশ ও জলবায়ুকর্মী নয়ন সরকার বলেন, বিশ্বনেতারা প্রতিশ্রুত তহবিল সংগ্রহ ও দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু আমরা আজকের বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট থেকে ক্রাউড ফান্ডিং রেইজ করা শুরু করেছি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির অর্থ দিচ্ছে না। আমরা চাই, আমাদের এ দৃশ্য দেখে বিশ্বনেতারা লজ্জা পাক। এটাও আমাদের একটা প্রতিবাদ। যেটা তারা পারেনি, সেটা আমরা শুরু করেছি। তহবিল সংগ্রহ করা ছোট পরিসরে শুরু করা হলেও বড় পরিসরে শুরু করার দায়িত্ব বিশ্বনেতাদের।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি শুরু করে র‍্যালি নিয়ে শাহবাগ হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনীর মাধ্যমে ধর্মঘট শেষ করে সংগঠনটি।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar