নির্দলীয় সরকারের দাবিতে অনড় বিএনপিসহ সমমনারা

বাগযুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছে

ভাবনায় নির্বাচনকালীন সরকার


  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ০৩ আগস্ট ২০২২, ১৫:১৩

সরকারি দল ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতির লড়াই চলছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসায় বেড়েছে এ বাগযুদ্ধের তীব্রতা। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে নিজপক্ষের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছেন দুটি বড় দলের নেতারা। থেমে নেই নিবন্ধিত অন্য দলগুলোও। ইসির সংলাপে অংশ নেয়া ২৮টি দলের বেশিরভাগই নির্বাচনকালীন সরকারে কোনো না কোনো ধরনের পরিবর্তন দাবি করেছে।

এদিকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কীভাবে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করা যায় সে প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন ঢাকার বিদেশি ক‚টনীতিকরাও। তারা পর্দার অন্তরালে একটি সমঝোতা করার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। বড় দেশগুলোর ক‚টনীতিকদের অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করে আলোচনা করছেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও তারা এককভাবে এবং জোটগতভাবে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন। এসব কারণে নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুটি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’-তে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দল তো বটেই, নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সাধারণের মনেও ভাবনার উদ্রেক করেছে এটি। সবার একটিই প্রশ্ন- কী ঘটতে যাচ্ছে নির্বাচনকালে? দলীয় সরকারই ক্ষমতায় থাকবে নাকি কোনো নিরপেক্ষ সরকার অস্থায়ীভাবে কয়েক মাসের জন্য গঠিত হবে? 

অবশ্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- ‘ইস্যুটি ক্লোজড’। তাদের সাফ কথা, নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন করবে এবং নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই। ক্ষমতাসীন জোটের শরিকরা এ নিয়ে কথা না বাড়ালেও নির্বাচনকালে সরকারের ক্ষমতা সীমিত চান তারা। আর বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো এখনও অনড় নির্দলীয় সরকারের দাবিতে। এই ইস্যুতে তারা বয়কট করেছে রাষ্ট্রপতি ও ইসির সংলাপ। তবে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা ইসি বিষয়টি নিয়ে কোনো পরামর্শ কিংবা মতামত দেয়নি। ইসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- এটি কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। এজন্য দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। সেইসঙ্গে সংলাপে আসা দাবি বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, রাজনীতির মাধ্যমেই ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা’ এনে অনুক‚ল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। আর এটি হলে ইসির পক্ষেও নির্বাচন করা সহজ হবে। আর সেজন্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে একে অপরের সঙ্গে বসার পরামর্শ দেন তিনি। সংলাপে দেয়া এক বক্তব্যে রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ‘রাজনীতির মাধ্যমে যদি পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি এনে নির্বাচনের অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাহলে ইসির পক্ষে নির্বাচন করাটা অনেক সহজ হয়। আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনাদের প্রত্যাশা মতো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাব।’

জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে চলমান এই সংকটটির সূত্রপাত হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর। উচ্চ আদালতের একটি রায়ের ওপর ভিত্তি করে সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত¡াবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে। এর ফলে সংসদ না ভেঙে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিরা ক্ষমতায় থেকে, দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান আসে। মূলত সে সময়েই এ সংকটের সূত্রপাত। পরবর্তী সময়ে বড় দুই দল নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের পর  সংকটটি আরও ঘনীভ‚ত হয়। ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। যদিও একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি এবং তাদের সতীর্থরা। অবশ্য নির্দলীয় সরকারের দাবি তখনও তারা করে আসছিল। ওই নির্বাচনে অল্পসংখ্যক আসন পাওয়ার পর বিএনপি শিবিরে দাবিটি আরও জোরালো হয়। পরবর্তীতে অবশ্য নিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দলই চলমান নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি তুলে।     

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে ১০টি দল নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ বা সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়। ১২টি দল নির্বাচনকালে সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে ইসির ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি তুলে। আর বিএনপিসহ যে ৯টি দল সংলাপ বর্জন করেছে, তাদের দাবি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ এবং সাম্যবাদী দলও নির্বাচনের সময় সরকারের ক্ষমতা সীমিত করে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্ত্রণালয় সরাসরি ইসির অধীনে নেয়ার প্রস্তাব করে। সংলাপে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও গণফোরাম-এই পাঁচটি দল নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষ বা তত্ত¡াবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছে। এজন্য ইসিকে সরকারের কাছে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করতে অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া চারটি দল নিবন্ধিত বা সংসদ প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছে। দলগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগসহ চারটি দল বিদ্যমান সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছে। তবে নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং অত্যাবশ্যকীয় সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে ইসির অধীনে ন্যস্ত থাকার প্রস্তাব করেছে ইসলামী ঐক্যজোট (আইওজে), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। অবশ্য নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে- এ নিয়ে বিভিন্ন দলের দেয়া প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করার এখতিয়ার ইসির নেই। এসব প্রস্তাব মানতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। ফলে জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা আওয়ামী লীগ না চাইলে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে না। তবে ইসি যদি মনে করে এই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন হলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক হবে, তাহলে বিষয়টি সরকারকে জানাতে পারে।

সংবিধান অনুয়ায়ী, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলটি বলছে, নির্বাচনকালীন তত্ত¡াবধায়ক সরকারব্যবস্থা ‘পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজড চ্যাপটার’ (অতীত এবং সমাপ্ত অধ্যায়)। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ইসির অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি দৈনন্দিন কাজে সীমিত থাকবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে ইসির ‘তত্তাবধানে’ ন্যস্ত করা হবে। আওয়ামী লীগের সভা সমাবেশে দলটির নেতৃবৃন্দসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা এ সম্পর্কিত বক্তব্য প্রদানের সময় সংবিধানের ওপরই জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে এবং নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তাদের মতে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। দলীয় সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিদের ক্ষমতায় রেখে সংসদ না ভেঙে তারা নির্বাচন করার পক্ষে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে নির্বাচন হবে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। নির্বাচনের সময় সরকার রুটিন কাজ করবে। কোনো পলিসি ডিসিশন নেবে না। সরকারদলীয় নেতারা এমনও বলছেন, তারা আন্তরিকভাবে চান বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং নির্বাচনটি ইনক্লুসিভ হোক। তবে কোনো দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে নির্বাচন বন্ধ হবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকার একটা মীমাংসিত বিষয়। সুতরাং এ নিয়ে নতুন করে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি কখনও নিরপেক্ষ সরকার, কখনও নির্বাচনকালীন সরকার, আবার কখনও তত্ত¡াবধায়ক সরকার এবং মাঝে মাঝে জাতীয় সরকার নিয়ে কথা বলেন। আসলে বিএনপি নেতারা কী চান, তা তারা নিজেরাও জানেন না। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, সরকারের অধীনে নয়। সরকার শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনকালে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।

এদিকে মামলা সামলাতে ব্যস্ত বিএনপি চলমান সংকট নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদানের ব্যাপারে পিছিয়ে নেই। বিশেষ করে দলীয় মহাসচিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির কিছু সদস্য প্রায় প্রতিদিনই চলমান নির্বাচনী সংকট নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদান করছেন। বিএনপি নেতারা মনে করেন, দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন করলে সে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপিদের ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এমন নির্বাচনে সরকারি দলের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে। তাছাড়া তারা জাতীয় সংসদ না ভেঙে নির্বাচন করাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে বলছেন, সরকারি দল ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়ে এখন নির্বাচনী পরাজয় এড়াতে নিজেরা ক্ষমতায় থেকে ‘হুকুমবরদার’ ইসির অধীনে নির্বাচনী বিজয় ম্যানেজ করতে চাইছেন। তারা বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, তবে শেখ হাসিনার অধীনে নয়। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করার যুক্তির পাল্টা জবাবে নেতারা বলছেন, সংবিধান জনগণের কল্যাণের জন্য। ইনক্লুসিভ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনে সংবিধানে সংশোধনী আনলে তাতে কোনো দোষ নেই। সরকার যদি গায়ের জোরে বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তবে তারা জনগণকে নিয়ে সে নির্বাচন প্রতিহত করবে। তারা দাবি করছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে, গ্রেপ্তার-নির্যাতন করে সরকার নির্বাচনের ফাঁকা মাঠ তৈরি করে গোল দিতে চায়। এবার তা হতে দেয়া হবে না।

নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি না মানলে রাজপথেই সরকার পরিবর্তন করা হবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন তখনই সম্ভব হবে যখন দেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার থাকবে। ওই সরকারের অধীনে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে সেই কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, এখন রাজপথেই একমাত্র সমাধান। বাংলাদেশে তো বেশিরভাগ সময় দেখা গেছে যে, জনগণের স্বতঃস্ফ‚র্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হয়। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী যে, এবার জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে আমরা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই সরকারের পরিবর্তন আনতে পারব।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar