জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: প্রধানমন্ত্রী


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ মে ২০২২, ১৫:১৯,  আপডেট: ২৬ মে ২০২২, ১৫:২২

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নদীমাতৃক দেশ, আমাদের দেশের ভেতর দিয়ে প্রায় ৭০০ নদী আছে। তাছাড়া আমাদের জলাভূমি আছে। সব থেকে বড় কথা হল, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনোভাবেই দায়ী নয়। কিন্তু বাংলাদেশকে এ আঘাতটা সহ্য করতে হবে। সে ক্ষেত্রটা চিন্তা করে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। কিছু স্বল্পমেয়াদি, কিছু মধ্যমেয়াদি ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) সকালে ‘বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান-২১০০ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স: ইস্যুস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব ইমপ্লিমেন্টেশন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিজে যখন কপ-১৫ এ যোগ দেই, তারপর ফিরে এসেই আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের অ্যাডাপ্টেশন প্রোগ্রাম নিয়ে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ডেলটা প্ল্যান আমরা এই কারণে নিয়েছি, যাতে শত বছরে বাংলাদেশ টেকসই হয়। আমরা চাই, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাবে, আরও উন্নত হবে। জলবায়ু অভিঘাত থেকে আমাদের জনসংখ্যাকে বাঁচানো, পাশাপাশি তাদের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান মৌলিক চাহিদাগুলো যেন আমরা পূরণ করতে পারি সে বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

দেশের ভৌগলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের এমন একটি ভৌগলিক অবস্থান। যেখানে প্রতিনিয়ত বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, পাহাড় ধসসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে চলতে হয়।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ। এই বদ্বীপ আমাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। এ জন্য সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশকে আমরা সুরক্ষিত করতে পারি।

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় পুর্নব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে না, আমরা সেটা প্রমাণ করেছি। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে করোনাভাইরাসের আঘাত সত্ত্বেও আমরা দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছি।

করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়েই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার হওয়ার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করায় নেদারল্যান্ডসকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্যান্য দেশগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সরকার প্রধান।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar