মুনিয়া ‘হত্যা-ধর্ষণ’ মামলা

ছয় মাস পর আনভীরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৭ মে ২০২২, ১৯:৩৫,  আপডেট: ১৭ মে ২০২২, ২০:০৭

রাজধানীর গুলশানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা ও কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কোন কারণ উল্লেখ না করেই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন এ আদেশ দেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওই আবেদন করলেও শুনানি ও আদেশের জন্য বারবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়। ওই সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার বিদেশ ভ্রমন করেছেন চাঞ্চল্যকর এ মামলার এক নম্বর আসামি ও নিহত মুনিয়ার প্রেমিক আনভীর।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে পিবিআই। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১২ বার সময় চেয়ে আবেদন করা হলো বলে আদালত। গত ২০ এপ্রিল বিচারিক আদালত বসুন্ধরা গ্র’পের এমডি আনভীর সোবহানের বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। ওই দিন আদালত এই মামলায় পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গুলশানের একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধারের পরে গত বছরের ২৬ এপ্রিল ২১ বছর বয়সী কলেজছাত্রী মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে আসে ৩-৪ সপ্তাহের অন্তসত্তা ছিলেন মুনিয়া। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল হাসান এই বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ১৮ আগস্ট আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং আনভীরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ও নতুন তদন্ত চেয়ে বিবৃতি দেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।

এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর কলেজছাত্রীর বড় বোন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে ৮ জনের বির’দ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সায়েম সোবহান আনভীরকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলম, তার স্ত্রী আফরোজা বেগম, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা সায়েম, কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, আনভীরের আরেক প্রেমিকা ও হুইপপুত্র শার’নের সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মিম, গুলশান বাসার মালিক ইব্রাহিম আহমেদ রিপন ও তার স্ত্রী শারমিন। এদের মধ্যে পিয়াসা ও মিমকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান পিয়াসা। মামলার পর আগাম জামিন পেতে আনভীর ও তার স্ত্রী সাবরিনা উচ্চ আদালতে যান। কিন্তু আদালত আনভীরকে জামিন না দিয়ে তার স্ত্রীকে ছয় মাসের আগাম জামিন দেন। যার মেয়াদ কয়েক মাস আগেই পার হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়, আনভীর ২০১৯ সালের জুন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুনিয়াকে কলেজ হোস্টেল থেকে ভাড়া করা বনানীর ভাড়া ফ্লাটে নিয়ে আসে; সেখানে ৭-৮ মাস ধরে রেখে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জেনে আনভীরের বাবা-মা পিয়াসার মাধ্যমে মুনিয়াকে তাদের বাসায় ডেকে এনে ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। তা নাহলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে গত বছরের মার্চ মাসের শুর’তে মুনিয়াকে গুলশান-২ নম্বর এভিনিউর ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর প্লটের বি/৩ ফ্লাটটি ভাড়া করে দেন আনভীর। যেখানে তার নিয়মিত যাতায়াতের ভিডিও ফুটেজ মেলে। কিছুদিন পর সেখানেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মুনিয়া। এই তর’নী মিরপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শফিকুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদরের দক্ষিণপাড়া উজির দীঘি এলাকায়।


poisha bazar