কাজ শেষ না করেই ১২৪ প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা


  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ১২ এপ্রিল ২০২২, ১২:৩৫

গত অর্থবছরে (২০২০-২১) সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১ হাজার ৯৫৪টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেয় সরকার। এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৬৪টি প্রকল্পের কাজ অনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সমাপ্ত ঘোষিত এসব প্রকল্পের মধ্যে শতভাগ কাজ হয়েছে ১৪০টি প্রকল্পের। বাকি ১২৪ প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বাস্তবায়ন কাজ বাকি রেখেই।

এদিকে গত অর্থবছরের সংশোধিত শূন্য ব্যয়ের প্রকল্পে মোট ১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পুরো বছরে বরাদ্দের একটি টাকাও খরচ হয়নি ৯০টি প্রকল্পে। শূন্য আর্থিক অগ্রগতির এসব প্রকল্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত বেশ কিছু প্রকল্পও রয়েছে। এছাড়া ১২২টি প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের ২৫ শতাংশেরও কম। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ৬৬২টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার (অর্থ ব্যয়) সন্তোষজনক নয়, বরং হতাশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাস্তবায়ন কাজের (ফিজিকাল প্রোগ্রেস) কোনো অগ্রগতি হয়নি এমন প্রকল্পের সংখ্যা ১১৭টি। এর মধ্যে কিছু প্রকল্পে বেতন-ভাতা বা অফিস খরচ বাবদ কিছু অর্থ ব্যয় হলেও, যে উদ্দেশ্যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে সে কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাস্তবায়ন অগ্রগতি ২৫ শতাংশের নিচে এমন প্রকল্পের সংখ্যা ১০৮টি। ২৬ থেকে ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে ১৩১টি প্রকল্প এবং ৫১ থেকে ৭৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে এমন প্রকল্প রয়েছে ২৩৩টি। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ মোটেই সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ১ হাজার ৯৫৪টি প্রকল্পের মধ্যে ২৬ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে ১৩০ প্রকল্পের। আর ৫১ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে ৩২০টি প্রকল্পের। এসব প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতিও সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, গত অর্থবছরে ৩০২টি প্রকল্পের বরাদ্দ শতভাগ খরচ হওয়ায় এসব প্রকল্পের অর্থ ব্যয়কে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সরকার চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দিলেও তা ঠিকভাবে ব্যয় করতে পারছে না তারা। ফলে অর্থবছরের মঝপথে এডিপি সংশোধন করেও ব্যয় কমানো হয়। এরপরেও অনেক প্রকল্পে অর্থ ব্যয় সম্ভব হয় না। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশকিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিহ্নিত করা হয়েছে- যেগুলো বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ব্যয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রকল্পগুলোর এমন অবস্থার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অর্থছাড় না হওয়া, ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়া, দরপত্র আহ্বানে বিলম্ব, দরপত্রে সাড়া না পাওয়া, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প হাতে নেয়া, ভৌত কাজের সঠিক নকশা না থাকা, বৈদেশিক ঋণ নিশ্চিত না করে প্রকল্প নেয়া, অপ্রতুল বরাদ্দ, মামলাজনিত সমস্যা, যথা সময়ে প্রকল্প সংশোধন না করা, কর্মপরিকল্পনা ও ক্রয় পরিকল্পনা না থাকার কারণে এসব বরাদ্দে অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না।

গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাবেই প্রতিবছর এমনটি ঘটছে বলে মনে হয়। এ বিষয়ে তিনি ৩টি প্রধান বাস্তবায়নজনিত ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হচ্ছে- অনিশ্চিত ভূমি অধিগ্রহণ, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে না পারা এবং তহবিল নিশ্চিত না করে প্রকল্প হাতে নেয়া। বিআইডিএসের সাবেক এই গবেষক আন্তরিকতা, প্রকল্প নেয়ার আগে সঠিক পরিকল্পনা এবং সক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রকল্প গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন।


poisha bazar


ads