সপ্তাহের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি বেড়েছে ৫৮ শতাংশ


  • সেলিম আহমেদ
  • ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:১২

মহামারী করোনার অতিসংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিস্তারে গত তিন সপ্তাহ থেকে দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। তবে স্বস্তির বিষয় হলো আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর মতো ওমিক্রনে আক্রান্ত সব রোগীকে ভর্তি হতে হচ্ছে না হাসপাতালে। তারপরও করোনা সেবায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।

খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীই গত শুক্রবার বলেছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে হাসপাতালে রোগী ভর্তি বেড়েছে ৬১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এরমধ্যে ঢাকায় রোগী ভর্তি বেড়েছে প্রায় ৫৮ শতাংশ। ইতোমধ্যেই ঢাকার হাসপাতালগুলোর প্রায় একতৃতীয়াংশ শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছেন। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে ঢাকা শহরের কোনো হাসপাতালে শয্যা খালি থাকবে না।

অব্যাহতভাবে সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে নেয়া হচ্ছে বাড়তি উদ্যোগ। নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। বাড়ানো হচ্ছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী আর অক্সিজেন সরবরাহ। এদিকে গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষায় আরো ৯ হাজার ৬১৪ জন রোগীর  মধ্যে পাওয়া গেছে করোনার উপস্থিতি। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ০২ শতাংশে। মৃত্যুও এক লাফে বেড়ে হয়েছে ১৭।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক মানবকণ্ঠকে বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে দিন দিন হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। এই এক সপ্তাহের ব্যবধানে রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রায় ৪-৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে আমাদের সব প্রস্তুতি নেয়া আছে। রোগী বাড়লেও আমরা সবাইকে ভর্তি নেব, চিকিৎসা দিব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ওমিক্রন রোগীদের চিকিৎসা অধিকাংশই হচ্ছে বাসাবাড়িতে। হাসাপাতালে রোগী আসছে কম। তবে কিছুদিনের মধ্যেই দেশে এই চিত্র পাল্টে যাবে। কারণ দেশে করোনা চিকিৎসা সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে। দেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংখ্যাটা মূলত ধরা যায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার। এর ৩ থেকে ৫ শতাংশ লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়।

 তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার আগে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে হবে। তা ছাড়া আগের করোনার ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে হবে। তাহলেই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটা কম থাকবে। তবে দেশে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ। এখনো ৬০ শতাংশ মানুষ টিকার বাইরে। সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভর্তি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শঙ্কাটা অবশ্যই ঠিক।

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ১৯৭ জন রোগী। এরমধ্যে শুধুমাত্র ঢাকায় রোগী ভর্তি ছিল ৭৪৪ জন। গতকাল শনিবার সারা দেশে সাধারণ আসনে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৩৫ জনে। এছাড়াও আইসিইউতে ভর্তি আছেন ২২৫ জন রোগী। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকায় সাধারণ আসনে ভর্তি আছেন ১ হাজার ১৭৫ জন রোগী। আর আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১৪৫ জন রোগী।

আরো ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯ হাজার ৬১৪: দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় মৃতের এ সংখ্যা গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ওইদিন ২০ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৬১৪ জন। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়ে ২৮ দশমিক ০২ শতাংশ। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে; শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত একদিনে ৩৪ হাজার ২০৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৩৪ হাজার ৩১১টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ০২ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, ৬ জন নারী। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১১ জন। চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ২ জন করে মারা গেছেন। এছাড়া বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন একজন করে।


poisha bazar


ads