কোচিং সেন্টারের শিক্ষক রাসেল যেভাবে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’

- সংগৃহীত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৪৫,  আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৫৬

একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন মো. রাসেল। এরপর ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি কোচিং সেন্টারে দুই বছর শিক্ষকতা করে ২০১১ সালে একটি ব্যাংকে চাকরি শুরু করেন। ছয় বছর সেখানে চাকরি করেন। এরপর ২০১৭ সালে নিজেই ব্যবসায় নামেন। এরমধ্যে ২০১৩ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন রাসেল। তারপর ২০১৮ সালে চালু করেন ইভ্যালি।

এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে লাখ লাখ গ্রাহককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অল্প কদিনে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান রাসেল। হাতিয়ে নেন গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা।

রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে গত বুধবার গভীর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। পরদিন (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রাসেলের বাসায় অভিযানে যায় র‌্যাব। সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন শেষে রাসেল ও শামীমাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।

র‌্যাবকে রাসেল জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লোকসানে ছিল ইভ্যালি। গ্রাহকের টাকা দিয়েই অফিস খরচ ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন তিনি।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাভারে রাসেলের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। হাজার কোটি টাকার দেনায় ডুবে থাকা ইভ্যালি কী করে পরিশোধ করবে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি রাসেল।

র‌্যাব কমান্ডার আরও জানিয়েছেন, নানা প্রলোভনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। দেশীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ ইভ্যালিকে বিক্রি অথবা দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল সিইও রাসেলের।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানিয়েছে— বিদেশি একটি ই-কমার্সের কৌশল ১:২ আলোকে প্রথম তিনি তার ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম তিনি একটি ব্র্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তী সময় কোনো আন্তর্জাতিক বা দেশীয় বড় প্রতিষ্ঠানে তার কোম্পানি দায়সহ বিক্রি করে দেওয়া, তিন বছর পূর্ণ হলেই শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা ছিল। সর্বশেষ দায় মেটাতে না পারলে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণারও চিন্তা ছিল। র‌্যাবের কাছে এসব অপকৌশলের কথা স্বীকার করেন তিনি।

র‌্যাব জানায়, রাসেলের ব্যবসায়িক অপকৌশলের মধ্যে অন্যতম হলো— নতুন গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে পুরনো গ্রাহকদের আংশিক অর্থ বা পণ্য ফেরত দেওয়া। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে যত গ্রাহক তৈরি হয় তার দায় ততই বাড়তে থাকে। রাসেল জেনেশুনেই এই অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ইভ্যালি ছাড়াও রাসেলের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে র‌্যাব জানায়। এর মধ্যে ই-ফুড, ই-খাত ও ই-বাজার অন্যতম।

ইভ্যালির ব্যবসায়িক কাঠামোর বিষয়ে রাসেল জানান, রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ইভ্যালির হেড অফিস আছে। এছাড়া ধানমণ্ডির আরেকটি স্থানে এর কাস্টমার কেয়ার সেন্টার রয়েছে। একইভাবে আমিনবাজার ও সাভারে তাদের ওয়্যার হাউস চালু করা হয়।

শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দুই হাজার স্টাফ কর্মরত ছিলেন এবং অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন ১৭০০ লোক। পরে সেই সংখ্যা কমে যায়। বর্তমানে ১৩০০ স্টাফ ও ৫০০ অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছে ।

কর্মচারীদের শুরুতে বেতন ছিল ৫ কোটি টাকার কিছু বেশি, বর্তমানে দেড় কোটিতে এসে ঠেকেছে। গত জুন থেকে অনেককেই বেতন দিতে পারেনি রাসেল।

মাসে পাঁচ লাখ টাকা বেতন নিতেন রাসেল ও তার স্ত্রী। রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালি থেকে কেনা একটি অডি গাড়ি, রেঞ্জ রোভার ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতেন। এছাড়াও ইভ্যালিতে রয়েছে ২৫-৩০টি গাড়ি।

মানবকণ্ঠ/এমএম


poisha bazar

ads
ads