কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে শঙ্কা


  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ১৯ জুলাই ২০২১, ১০:৪০

মহামারী করোনার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মোসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে পশু কোরবানি দিবেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু পশুর এতো চামড়া কিভাবে সংগ্রহ করা হবে, প্রক্রিয়াজাতকরণই বা হবে কিভাবে? এনিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, ঈদের পরপরই শুরু হবে কঠোর লকডাউন। এতে শ্রমিক ও পরিবহন সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দিবে। করোনার কারণে একসাথে বেশিসংখ্যক শ্রমিক নিয়ে কাজও করা যাবে না। এছাড়া কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরোপুরি চালু না হওয়ায় উন্নত বিশ্বে সরাসরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিও করা যাবে না। এ অবস্থায় চামড়ার ভবিষ্যৎ কি হবে তা তারা অনুমানও করতে পারছেন না।

তবে বিসিক চামড়া শিল্প নগরী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিসিক। দেশের অন্যতম রফতানি আয়ের খাত চামড়া শিল্পে বর্তমানে যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা সমাধানেও কাজ চলছে।

বিসিক চামড়া শিল্প নগরী ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জে. এন. পল জানান, কোরবানির পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানির লক্ষ্যে সিইটিপি পরিষ্কারের কাজ চলছে। এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ২৪ ঘণ্টা এখানে থেকে কাজ করছেন। ইটিপি ফাংশনিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য ২ মাসের কেমিক্যাল অগ্রীম কিনে রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনের সময় চাহিদা পূরণ করা যায়।

নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার ও পানি সাপ্লাইয়ের জন্য দায়িত্বরতদেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে যারা সার্বক্ষণিক তদারকি করবে সম্পূর্ণ কার্যক্রম যাতে সংকট নিরসন সম্ভব হয়। এছাড়াও ঈদের দিন ও পরের দিনগুলোতে অতিমাত্রায় সরাসরি ট্যানারিতে চলে আসা চামড়া ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো সমস্য তৈরি না হয় সেজন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি গবাদি পশুর চামড়া ক্রয় করা হয়, যার ৮০ ভাগ চামড়াই সংগ্রহ করা হয়ে থাকে কোরবানির ঈদকে ঘিরে। চামড়া সংগ্রহের এ মৌসুমে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন দেশের প্রান্তিক ব্যবসায়ীরাও। করোনা মহামারীতে চামড়া ব্যবসায় একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে ধস নেমেছে, পাশাপাশি দেশীয় বাজারে সর্বনিম্ন দরে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। সেইসঙ্গে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে দেশ লকডাউন থাকায় শ্রমিক ও পরিবহন সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে আসছে কোরবানির ঈদকে ঘিরে তৈরি হতে যাওয়া কাঁচা চামড়ার বড় জোগান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

ট্যানারি মালিকরা জানিয়েছেন, করোনাকালে শ্রমিক সংকট বড় সমস্যা হতে পরে। তবে সরকার যদি পণ্য পরিবহন যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে পারে তাহলে হয়তো সংকট উত্তরণ সম্ভব হবে। এছাড়া সেন্ট্রাল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পুরোপুরি বুঝিয়ে না দেয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে পরিবেশের দোহাই দিয়ে পরিবেশ অধিদফতর বাড়তি চাপ দিতে পারে। এসব কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে বলে জানান তারা।

প্রগতি ট্যানারির মালিক শামসুল আলম স্বজন জানান, বাজারের চাহিদানুযায়ীই ট্যানারি মালিকরা চামড়া ক্রয় করবে। এবার গরমের মধ্যে কোরবানির ঈদ হওয়ায় অনেকটা শঙ্কা রয়েছে, যার কারণে এবার চামড়া সংরক্ষণেও নিতে হবে দ্রুত পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, চামড়া সংগ্রহের করে সন্ধ্যার পর ট্যানারিতে আসতে শুরু করবে। এপর্যন্ত চামড়াগুলোর গুণগত মান ঠিক থাকবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত উল্লাহ বলেন, গেল বছরের ন্যায় এবারের কোরবানির ঈদেও ৮০ লাখ গবাদি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পরিবহন সংকট কেটে গেলে অনেকটাই স্বাভাবিক হবে চামড়া শিল্প।

তিনি বলেন, সিইটিপি নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাইনিজ কোম্পানি গত ৩০ জুন কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিসিকের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে। বিসিক একটি কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে তাদের কাছে সিইটিপি’র দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। যে অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা সংস্কার না করলে ট্যানারি মালিকরা বাধার সম্মুখীন হবে বলে জানান তিনি।


poisha bazar

ads
ads