ঈদকেন্দ্রিক অপরাধীরা সক্রিয়


  • শাহীন করিম
  • ১৯ জুলাই ২০২১, ০৮:১০

বড় উৎসবকে ঘিরে রাজধানীতে তৎপরতা বাড়ে পেশাদার ও মৌসুমি অপরাধীদের। আসন্ন ঈদুল-আজহাকে সামনে রেখে এবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী, ডাকাত, জালটাকার কারবারি, বিকাশ প্রতারক, অজ্ঞান ও মলম পার্টিসহ বহু অপরাধী চক্র। এসব অপরাধীরা সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে রাজধানীর বিপণিবিতান, টার্মিনাল, ব্যাংকপাড়া ও পশুরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিচ্ছে।

এ ছাড়া কোটি কোটি টাকার ‘নিখুঁত’ জাল নোট রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানান গোয়েন্দারা। তবে এসব পেশাদার ও মৌসুমি অপরাধীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে পাল্টা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পশুরহাট, বিপণিবিতান, ব্যাংকপাড়া ও স্টেশনগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

শনিবার রাতে রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের ফিজিওথেরাপিস্ট সুশান্ত মজুমদার গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি একটি ক্লিনিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই আবদুল কুদ্দুস বলেন, যাত্রীবেশে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সুশান্ত মজুমদারকে অচেতন করে তার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে মলম পার্টির পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র?্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে চেতনানাশক ওষুধ, মলম, দৃষ্টিভ্রম করার টাইগার বাম জব্দ করা হয়। তার আগে গত সপ্তাহে ভাটারা এলাকা থেকে প্রায় কোটি টাকার জালনোটসহ একটি চক্রকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, রমজানের ঈদ ও কোরবানির ঈদে কেনাকাটা, ব্যবসাবাণিজ্য, অর্থের লেনদেন বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, দস্যুতাসহ মলম ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতাও বৃদ্ধির শঙ্কা থাকে। জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো সারা বছর তৎপর থাকলেও উৎসবে বড় টার্গেট নিয়ে মাঠে নামে তারা। ঢাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সংঘবদ্ধ হচ্ছে পেশাদার ও মৌসুমি অপরাধীরা। তবে তাদের ধরতে ও অপরাধ রোধে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা কয়েকদিন আগে থেকেই অভিযান শুরু করেছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই মুহূর্তে রাজধানীর অন্তত দেড় শতাধিক স্পটে সক্রিয় হয়ে উঠছে ছিনতাইকারীরা। এসব ছিনতাইকারী চক্রের প্রত্যেকটি দলে ৩ থেকে ৫ জন করে সদস্য রয়েছে। পশুরহাট, মার্কেট ও টার্মিনালগুলোর আশপাশসহ বিভিন্ন স্পটে শিকারের আশায় ওতপেতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এদের কেউ কেউ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়েও সংশ্নিষ্ট এলাকায় টহল দেয়। এ ছাড়া রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় জাল নোট তৈরির চক্রগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই চক্রগুলো জাল নোট ছাপিয়ে তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোয়ও তা ছড়িয়ে দেয়ায় লিপ্ত।

অন্যদিকে অজ্ঞান ও মলম পার্টির বহু চক্র সক্রিয় রয়েছে। পান, ডাব, শরবত, মসলা-মুড়ি ও নানা ধরনের মুখরোচক খাদ্যের বিক্রেতা হিসেবে হকারি করে। ভদ্র চেহারার যাত্রীবেশে বিভিন্ন পশুরহাটের আশপাশ, গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এমনকি বিমানবন্দরে ঘুরে যাত্রীদের ঘায়েল করে তারা।

তবে পুলিশ ও র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সব ধরনের অপরাধীদের দমন ও নিয়ন্ত্রণে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাস্তায় টহল আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা জানান, করোনা সংকটের কারণে এবার এখন পর্যন্ত অপরাধের সংখ্যা তুলনামূলক খুব কম। তারপরেও সব ধরনের মৌসুমি অপরাধীদের গ্রেফতার করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, বড় উৎসকে টার্গেট করে জাল টাকার কারবারি, অজ্ঞান ও মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এদিকে কোরবানির ঈদ মৌসুমে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে মানিস্কট সেবা দেয়ার কথা বলা হয়েও তাতে সাড়া মিলছে না। টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে অনেক ব্যবসায়ীর আগ্রহ নেই। ফলে বিপদের বড় ধরনের ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু ক্রয়, অন্যান্য কেনাকাটা ও নগদ টাকা নিয়ে চলাচল করতে পারে, সেজন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। জনবহুল এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

আর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ঈদকেন্দ্রিক অপরাধীদের প্রতিরোধ ও গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে পুলিশের টহলের পাাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানা পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।

 



poisha bazar

ads
ads