রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি: প্রধানমন্ত্রী

- ফাইল ছবি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৩ জুন ২০২১, ১৭:৪৩

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান।

বুধবার (২৩ জুন) তিন দিনব্যাপী নবম ‘মস্কো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে’ ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এখানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। বিশ্ব সম্প্রদায়কে অনুরোধ করব মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের তাদের মাতৃভূমিতে সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আমাদের সহায়তা করুন।

তিনি বলেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে জোরপূর্বক বিতাড়িত বাংলাদেশ ১১ লাখের বেশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একটি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যকার সংঘাত আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা সমস্যার জন্ম দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নিরাপত্তা ধারণার মধ্যে সামরিক হুমকি, ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজন, স্বেচ্ছায় গণ-অভিবাসন, পরিবেশগত নিরাপত্তা ও অন্যান্য অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি অন্তর্ভুক্ত। এমনকি সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, বিচ্ছিন্নতাবাদ, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র, সাইবার অপরাধ, আঞ্চলিক কোন্দল এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করার কথা দৃঢ় তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

এসময় যে কোনো মূল্যে দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টিকাদানের আওতায় আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব উৎস থেকে সরকার টিকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। আমাদের সরকার টিকার জন্য রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত আছে। বাংলাদেশের ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এবং এমনকী আমাদের যদি ভ্যাকসিন উৎপাদন চেইনে নেওয়া হয় আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে সহায়তা দিতে পারবো।

বিশ্ব সম্প্রদায়কে কোভিড-১৯ যুদ্ধে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত, অসহায় মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা, রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মানবকণ্ঠ/এসকে


poisha bazar

ads
ads