মেয়াদ শেষে অগ্রগতি শূন্য! ব্যয় ২৪ কোটি টাকা


  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ০৯ জুন ২০২১, ১০:০৭,  আপডেট: ০৯ জুন ২০২১, ১০:৫৩

তিন বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি বলতে, কেবল ঠিকাদার নিয়োগ। আর তাতেই শেষ ২৪ কোটি টাকারও বেশি। এমন অবস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদকাল। সে হিসেবে মেয়াদ আছে আর মাত্র এক মাস। মাঠে কাজের কাজ কিছু না করলেও, তাদের সময় চাই আরো। বরাদ্দ চাই আরো শত কোটি টাকা। তবে ডিপিডিসি সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্প কাজ এগুচ্ছে।

গত এক দশক আগে রাজধানীতে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন শুরু হয়। যার আরো উন্নত রূপ, অনলাইন স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার। সবই হচ্ছে, বিদ্যুতের স্বয়ংক্রিয় বিলিং সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে। ছয়টি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ সালের মধ্যে মোট ৩ কোটি ৮৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৫১ জন বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটারিং সিস্টেমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সব গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটারিং সিস্টেমের আওতায় বিদ্যুৎ বিলিংয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হবে না।

২০২২ সালের মধ্যে ৮৮ লাখ প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপন করা হবে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৩৮ লাখ ৭১ হাজার ১২৪ সিঙ্গেল ফেজ এবং থ্রি ফেজ স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের এ সুবিধার আওতায় আনতে ২০১৮ সালের ১ জুলাই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সাড়ে ৮ লাখ গ্রাহকের বাসায় উন্নত প্রযুক্তির প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের প্রকল্প নেয়।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয় ৬৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৬০৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা সরকারি তহবিলের। বাকি ৫০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ডিপিডিসির। জানা গেছে, চলতি বছরের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগ করা ছাড়া কোনো অগ্রগতিই পরিলক্ষিত হয়নি। তবে এ তিন বছরে কাজ না এগুলেও প্রকল্পের খরচ থেমে নেই।

আনুষঙ্গিক নানা খাতে ২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। ডিপিডিসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য করোনা ভাইরাসের কারণে প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে।

তবে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্প কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে সিস্টেম লসের হার কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলো ও গ্রাহকদের অটোমেটিক মিটার রিডিং সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে। বেশকিছু ১৩২/৩৩ এবং ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

এদিকে প্রকল্প কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে ডিপিডিসি। সংস্থাটি বলছে, প্রকল্পের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও প্রশিক্ষণে ব্যয় বাড়বে। এ জন্য অতিরিক্ত ৯৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে আরো দুই বছরের।

ডিপিডিসির তথ্যানুযায়ী, নতুন বরাদ্দের টাকায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কিনতে ৭৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা, মিটার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে ৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং বৈদ্যুতিক নির্মাণ বা স্থাপন খাতে ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ হবে।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির পরিচালক গিয়াস উদ্দিন জোয়ার্দার বলেন, প্রকল্প কাজ এগুচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সব কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) গঠন করা হয়। ২০০৭ সালের ১৪ মে অপারেশন শুরু হয়। ডিপিডিসির বর্তমান সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ১৬৭০ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। এর আওতায় ১৩২/৩৩ কেভির সাব-স্টেশনের সংখ্যা ১৪টি এবং এগুলোর ক্যাপাসিটি ২৪১৮ এমভিএ। অন্যদিকে ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশনের সংখ্যা ৪৮টি এবং এগুলোর ক্যাপাসিটি ৩০১০ এমভিএ।



poisha bazar

ads
ads