ডা. সাবিরা হত্যা: এক সপ্তাহেও অন্ধকারে পুলিশ


  • শাহীন করিম
  • ০৭ জুন ২০২১, ০০:০৪

রাজধানীর কলাবাগানে গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপি (৪৭) ‘হত্যাকাণ্ডের’ পর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও অন্ধকারে পুলিশ। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি ও র‌্যাবও ছায়া তদন্ত করলেও কোনো অগ্রগতি নেই। খুনি শনাক্তে কোনো সূত্র মিলছে না।

সাবিরার বাসায় সাবলেট থাকা মডেল কানিজ সুবর্ণা, তার বন্ধু, বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও গৃহকর্মী, ভবনের বাসিন্দা ও ভিকটিমের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়নি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজও মেলেনি। ফলে জড়িত কাউকে গ্রেফতারও করা যায়নি।

এদিকে পুলিশ বলছে, ডা. সাবিরার জব্দ করা মোবাইল ফোনটির ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বাসার দরজাসহ বিভিন্ন জায়গার ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ভিকটিমের মোবাইল ফোনের কলের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও খুনিকে শনাক্ত করার জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগেই কানিজ সুবর্ণা ও তার বন্ধুসহ আটক পাঁচজনকে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে পরবর্তীতে ফের ডাকা হবে।

জানতেই চাইল কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র বলেন, ডা. সাবিরা হত্যা নিয়ে থানা পুলিশের পাশাপশি পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পায়নি। ওই ভবনের বাসিন্দা ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ও উদ্ধার করা আলামত যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে উল্লেখ্যযোগ অগ্রগতি না থাকলেও আমরা খুনিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। সম্ভাব্য সব দিক মাথায় রেখেই ডা. সাবিরা হত্যার তদন্ত চলছে।

ডা. সাবিরা রহমান লিপির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ছায়া তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটিকে হত্যাকাণ্ড ধরেই তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের কানিজের সম্পৃক্ততা মেলেনি। আমাদের ধারণা, ঘাতক পূর্ব পরিচিত। সেক্ষেত্রে ভিকটিমের আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীরাও সন্দেহের বাইরে নন। অবশ্য মামলার বাদী সাবিরার মামাত ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার মামলায় একই ফ্ল্যাটে সাবলেটে থাকা কানিজ সুবর্ণাকে সন্দেহ করেন।

একই সূত্র সাবিরা হত্যাকাণ্ডটি রহস্যে ঘেরা। তার স্বামী-সন্তান থাকলেও তাদের ছেড়ে তিনি একা আলাদা ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তাকে খুন করে খুনিরা চলে গেলেও দরজা ভাঙার আলামত নেই। তাকে গায়ে আগুনও ধরিয়েও দেয়া হয়নি। তোশকে ধরে যাওয়া আগুন থেকে তিনি দগ্ধ হন। হয়তো পরিচিতরাই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডা. সাবিরা গ্রিন হাসপাতাল থেকে কখন বের হয়েছিলেন ও তিনি কী রিকশা না প্রাইভেট গাড়িতে এসেছিলেন তার জন্য তার কর্মস্থল হাসপাতালে গিয়ে তথ্য নিয়ে এসেছে। পরে তারা জানতে পেরেছেন যে, ঘটনার আগের দিন তিনি রিকশায় করে বাসায় ফিরেছিলেন। হাসপাতালের কোনো সহকর্মীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল কী না তারা যাচাই করছেন। তবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, ওই হাসপাতালের কয়েক চিকিৎসকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত হিসেবে সাবিরার মোবাইলের কললিস্ট ধরে তদন্ত চলছে। ঘটনার আগের দিন তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন বা তাকে কে কল দিয়েছিলেন তা তারা জানার চেষ্টা চলছে।

জানতে চাইলে ডিএমপির নিউ মার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. ফারুকুজ্জামান বলেন, ডা. সাবিরার সাবলেট কানিজ সুবর্ণা, তার বন্ধু, বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও গৃহকর্মী, ভবনের বাসিন্দা ও সাবিরার স্বজনসহ ১৪-১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আশপাশের ভবন থেকে সিসিটিভির ফুটেজও পাওয়া যায়নি। তবে খুনি শনাক্তে সাবিরার মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

 



poisha bazar

ads
ads