মহামারীতেও এনআইডি সেবা


poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩০

মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যসব প্রতিষ্ঠানের মতো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কার্যক্রমও অনেকটাই স্থবির। স্থগিত করে দেয়া হয়েছে ভোট আয়োজনও। তবে নাগরিকদের অতিপ্রয়োজনীয় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা দিতে করোনার মধ্যেও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কার্যক্রম সচল রাখে কমিশন।

করোনাকালে এই অনুবিভাগ থেকে পৌণে এক কোটি নাগরিককে সেবা দেয়া হয়েছ্। অনলাইনের মাধ্যমে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৯ জন নতুন ভোটারকে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ভোটারা নিজেরাই অনলাইনে ইসির সার্ভার থেকে পরিচয়পত্রটি ডাউনলোড করে নিয়েছেন। এছাড়া ২৭ লাখ নাগরিককে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে হারানো কার্ড উত্তোলন সংক্রান্ত সেবা নিয়েছেন ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৬২ জন নাগরিক।

আর পরিচয়পত্র সংশোধনের সেবা নিয়েছেন ৪ লাখ ৮১ হাজার ৩৭০ জন। এছাড়া নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন নেয়া হয়েছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫ জনের। ইসির এনআইডি শাখার কমিউনিকেশন্স কনসাল্টেন্ট মো. শফিক জানান, করোনার প্রকোপের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বন্ধ থাকলেও অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সংগ্রহ, সংশোধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বেশকিছু সেবা চালু রাখে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট ওয়েব সাইট services.nidw.gov.bd-তে প্রবেশ করে নাগরিকরা এ সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এছাড়াও ওয়েব সাইটে গিয়ে পুরাতন ভোটাররা তথ্য হালনাগাদ এবং হালনাগাদে যে ধরনের প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণাদি লাগবে তার তথ্য জানতে পারছেন। তিনি বলেন, এনআইডি সংশোধন, ঠিকানা স্থানান্তর সংক্রান্ত সেবাগুলোও অনলাইনে দেয়া হবে। তবে এনআইডি এখন কেউ পাবেন না। অফিস খুললে পাবেন।

গত বছরের ২৬ এপ্রিল অনলাইনে এনআইডি সেবার উদ্বোধন করা হয়। এরআগে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ এর প্রকোপের কারণে প্রথম দফায় গত ১৯ মার্চ থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইস্টিটিউটে জাতীয় পরিচয় সেবা বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন। পরে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে এ সেবা বন্ধ রাখা হয়। তবে সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বাড়াতে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ালেও ছুটির মধ্যেই আনলাইনের মাধ্যমে সংশোধন ও তথ্য হালনাগাদের আবেদনের সেবা চালু করে নির্বাচন কমিশন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি এনআইডি প্রিন্ট করে সরবরাহ করতে প্রায় ১০ টাকার মতো খরচ হয়। এক্ষেত্রে নিজের এনআইডি নিজে ডাউনলোড করে নেয়ার সুযোগ দেয়ায় প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো সাশ্রয় হয় ইসির। মূলত নতুন ভোটারদের এখনই স্মার্টকার্ড দিতে না পারায় এ সুযোগটি দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১০৫ নম্বরে এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে নিজ এনআইডি নম্বর জানা যাচ্ছে।

আবার ইন্টারনেট লিংকে (https://services.nidw.gov.bd/) লগইনের মাধ্যমে নিজ এনআইডি নম্বর জানা ও অনলাইন কপি পাচ্ছেন। এ এনআইডি দেখতে হুবুহু লেমিনেটিং করা এনআইডির মতো। এটি ডাউনলোডের পর প্রিন্ট করে কেবল লেমিনেটিং নিজে থেকে করে নিলেই হবে।

ঝুলে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ : এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত জমা পড়া ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬৪টি সংশোধনী আবেদন দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির উদ্যোগ রয়েছে কমিশনের। এর বাইরে শ্রেণি নির্ধারণের অপেক্ষায় ঝুলে থাকা ৬৯ হাজার ৫১৩টি আবেদনের বিষয়টি নিয়েও এগুচ্ছে ইসিরএ সংক্রান্ত অনুবিভাগ।

ইসির বিধিমালা অনুযায়ী, আবেদনের তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশন সন্তুষ্ট হলে সংশোধন করে তা আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে জানানোর কথা। আবেদন নামঞ্জুর হলে সেটিও যথাশিগগিরই আবেদনকারীকে জানানোর কথা। কিন্তু আবেদন করে বছরের পর বছর ঘুরেও নাগরিকরা পরিচয়পত্র হাতে পান না- এমন অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।

তবে ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, মিথ্যা তথ্য দিয়ে অনেকে সহজেই একাধিক এনআইডি করছেন বা পরিচয়পত্র সংশোধন করছেন। আবার অনেকে বিভিন্ন ভাতা, জমিজমা দখল, চাকরিতে সুবিধা নেয়াসহ নানা কারণে ভুয়া প্রমাণপত্র তৈরি করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করাচ্ছেন। যে কারণে আইনকানুন খুব কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। তারা চেষ্টা করছেন যতটুকু সম্ভব দ্রুত সংশোধনের কাজ শেষ করতে।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, অনেকে নানা ধরনের অনিয়ম, অবৈধ সুবিধা নেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করেন। যে কারণে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে সময় লাগছে। এছাড়া ১১ কোটির বেশি ভোটারকে ইসি সেবা দেয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবার কাজটি সুচারুভাবে করতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন। যারা কাজ করছেন, তাদের সিংহভাগ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আসা। এ কারণেও কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। তবে নাগরিক সেবা দ্রততার সাথে নিশ্চিতে তারা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।






ads
ads