সিটিস্ক্যান রিপোর্ট ভালো, বাসায় চিকিৎসা নিবেন খালেদা জিয়া


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪০,  আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫২

করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। গুলশানের বাসভবন থেকে রওয়ানা হয়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী গাড়ি হাসপাতালে পৌঁছে। সেখানে তার সিটিস্ক্যান শেষে ১০টা ২৪ মিনেটে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে এক ব্রীফিংয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন,করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এইচ আর সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। সিটিস্ক্যান রিপোর্ট খুবই ভালো এসেছে আলহামদুলিল্লাহ।

এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বাসায় ফিরেছেন। আমরা ১৪ দিন পর্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করবো।করেনা আক্রান্ত হওয়ার সপ্তম দিনে এখন শংকামুক্ত বলার সময় আসেনি। এটা বলা যাবে ১২ থেকে ১৪ দিন পরে। ফুসফুসের মধ্যে সংক্রমনের অবস্থা খুবই সামান্য। তাঁকে বাসা রেখেই তাঁর পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। আজ সিটিস্ক্যানের পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

বেগম জিয়ার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, একজন নার্স এবং গৃহকর্মী ফাতেমা।

বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান করানো হবে। ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুনের তত্ত্বাবধানে তার সিটি স্ক্যান করানো হয়।

এদিকে গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী এই সিটিস্ক্যান করানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিকেলে ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) আজকে আক্রান্ত হওয়ার সপ্তম দিন। কোভিডের পরিভাষায় তিনি এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করছেন। আমি আগেও বলেছি যে, কোভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। কোভিডের যত সাবধানতা, যত জটিলতা সেগুলো সাধারণত দ্বিতীয় সপ্তাহে হয়। সেজন্য আমরা আরেকটু সাবধানতা অবলম্বন করতে চাই।তার সব পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু সিটি স্ক্যানটা করানো হচ্ছিল না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সিটি স্ক্যানটা করিয়ে ফেলব। এছাড়া বাকি সব যেমন- বায়ো কেমিক্যাল প্যারামিটারস, ফিজিক্যাল স্ট্যাটাস, অক্সিজেন স্যাচুরেশন এবং অ্যাপেটাইট, পালস, ব্লাড সার্কুলেশন অন্যান্য সব দিকে তিনি আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটি ভালো আছেন।

এফএম সিদ্দিকী আরও বলেন,কোভিডে কখনোই আপনি আগে থেকে বলতে পারবেন না কন্ডিশন কেমন হবে। এটা দ্রুত পরিবর্তনশীল একটা রোগ।আমরা যদি সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখে মনে করি যে, বাসায় রেখে চিকিৎসা করাটা তার জন্য ভালো হবে তাহলে বাসায় রাখব। সিটি স্ক্যান দেখে যদি মনে হয় দু-তিনদিন বা কয়েক দিনের জন্য হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখা দরকার-আমরা সেটাও করব। আমাদের ডিসিশনটা নির্ভর করবে সিটি স্ক্যানের রিপোর্টের ওপর।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সকালে জ্বর আসলেও এখন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তার ব্লাড রিপোর্ট ভালো। উনার (খালেদা জিয়া) নতুন যে একটুখানি উপসর্গ দেখা দিয়েছে, সেটা হলো বুধবার রাতে একটু জ্বর উঠেছিল। সেটা থার্মোমিটারে ১০০-এর মতো ছিল। গতকাল সকালেও উনার একবারের মতো একটু জ্বর উঠেছে। সেটা থার্মোমিটারে ১০০ ছুঁয়েছে। এই জ্বর কিছুক্ষণ ছিল।’
ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের অবস্থা সম্পর্কে ডা. সিদ্দিকী বলেন, ডায়াবেটিসের ব্লাড সুগার এখন খুব ভালো কন্ট্রোলে আছে। আমরা প্রতিদিন ব্লাড সুগার তিনবার মনিটর করছি। সেই অনুযায়ী আমরা ট্যাবলেট ও ইনস্যুলিন দিয়ে ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করছি। আর্থাইটিসের উনার ফিজিওথেরাপি চলছে। আরও যেসব চিকিৎসা দরকার, সেগুলোও সবই চলছে।

তিনি বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়া) কোভিড সংক্রান্ত মানসিক অবস্থা ভালো। উনি মানসিকভাবে বেশ স্টেবল আছেন এবং যথেষ্ট ভালো আছেন।’
ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ১০ এপ্রিল তিনি নমুনা দেন। ওই রাতেই ফল পজিটিভ আসে। পরদিন রোববার বিকালে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া ছাড়াও তার গৃহকর্মী ফাতেমাসহ বাসার মোট আট জন করোনায় আক্রান্ত হন।

মানবকণ্ঠ/এমএ






ads
ads