ইউপি নির্বাচনে অতীত বিতর্কের অবসান ঘটাতে চায় ইসি


poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ০৫ মার্চ ২০২১, ১০:০৮

আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোটের নির্বাচন শুরু হবে। অনুষ্ঠেয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার মাধ্যমে আগের সব বিতর্কের অবসান ঘটাতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে নিজেদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে কমিশনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্টরা।

ইসি সচিব জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই- অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক ভোট হবে। এ জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ থাকবে। এরআগে জাতীয় নির্বাচনসহ এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিভিন্ন উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন রাজনৈতিক দল ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ইস্যুতে বিতর্কও পিছু ছাড়েনি নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে।

গত ৩ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ১৮ মার্চ, প্রার্থী বাছাই ১৯ মার্চ এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৪ মার্চ। জানা গেছে, কমিশন প্রথমে ৩২৩টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে তা বাড়িয়ে ৩৭১টি করেছে। এক্ষেত্রে আগের পরিকল্পনায় যেসব উপজেলার দুই-একটা ইউনিয়ন বাদ ছিল সেগুলো যুক্ত করেছে। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও সেখানকার কোনো উপজেলায় এ ধাপে ভোট হচ্ছে না।

আইন অনুযায়ী, আগামী ২১ মার্চের মধ্যে সাড়ে সাতশ ইউপিতে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো চ‚ড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে না পারায় চলতি মাসে (মার্চ) ভোট করতে পারেনি ইসি। তাই গত ২ মার্চ চ‚ড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরদিন ৩ মার্চ তফসিল ঘোষণা করে কমিশন।

এদিকে ইসির প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস দেখিয়ে চরম প্রতিকূল অবস্থাতেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে প্রমাণিত হয়েছে, এই কমিশন কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের যোগ্য নয়। এই সরকার অনির্বাচিত একটি সরকার এবং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই কমিশনের প্রধান কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির এই ঘোষণার মধ্যে দেশের ইউপিগুলোতে ভোট শুরুর লক্ষ্যে প্রথম দফায় ৩৭১টি ইউপি নির্বাচনের তফসিল গত বুধবার ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, নির্বাচন করার একটা প্রিন্সিপাল আছে আমাদের। সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যারা থাকেন, সবাইকে নিয়োগ করে থাকি। প্রয়োজনে বিজিবি নিয়োগ করে থাকি। আমরা চাই সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। নির্বাচন কমিশনের যে অবস্থান, তাতে সবাইকে নিয়েই ইলেকশন করতে চাই। তবে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে পূর্বের সব বিতর্কের অবসান ঘটাতে চায় ইসি।

প্রথম ধাপে যেসব ইউপিতে ভোট গ্রহণ হবে: আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে যে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে, সেগুলো হচ্ছে-পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পাংগাশিয়া, আংগারিয়া, মুরাদিয়া। বাউফল উপজেলার ধুলিয়া, কেশবপুর, বগা, চন্দ্রদ্বীপ, কালিশ্বরী, কনকদিয়া, আদাবাড়িয়া, কালাইয়া, কাছিপাড়া। দশমিনা উপজেলায় আলীপুর, বহরমপুর, বাঁশবাড়িয়া। গলাচিপা উপজেলায় আমখলা, গোলখালী, চিকনিকান্দি ও রতনদী তালতলী। রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী। বগুড়ার দুপচাচিয়ার তালোড়া।

খুলনা কয়রার আমাদি, বাগালী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, কয়রা, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী। দাকোপের পানখালী, দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, সুতারখালী, কামারখোলা, তিলডাঙ্গা, বাজুয়া ও বানিশান্তা। বটিয়াঘাটার গংগারামপুর, বালিয়াডাঙ্গা ও আমিরপুর। দিঘলিয়ার গাজীরহাট, বারাকপুর, দিঘলিয়া, সেনহাটা, আড়ংঘাটা ও যোগীপুল।

পাইকগাছার ষোলাদানা, রাড়ুলী, গড়ইখালী, চাঁদখালী, দেলুটি, লতা, হরিঢালী, ও কপিলমুনি। বাগেরহাট ফকিরহাটের বেতাগা, লখপুর, পিলজংগ, ফকিরহাট, বাহিরদিয়া মানসা, নলধা মৌভোগ ও শুভদিয়া। মোল্লাহাটের উদয়পুর, চুনখোলা, কোদালিয়া, গাওলা, কুলিয়া ও আটজুড়ি। চিতলমারীর বড়বাড়ীয়া, হিজলা, শিবপুর, চিতলমারী, কলাতলা, চরবানিয়ারী ও সন্তোষপুর।

কচুয়ার গজালিয়া, ধোপাখালী, মঘিয়া, কচুয়া, গোপালপুর, রাড়ীপাড়া, বাধাল। রামপালের গৌরম্ভা, বাইনতলা, হুড়কা, মল্লিকের বেড়, বাঁশতলী, উজলপুর, রামপাল, রাজনগর, পেড়িখালী ও ভোজপাতিয়া। মোংলার চাঁদপাই, বুড়িরডাংগা, চিলা, মিঠাখালী, সোনাইলতলা ও সুন্দরবন। মোরেলগঞ্জের পঞ্চকরন, দৈবজ্ঞহাটী, চিংড়াখালী, হোগলাপাশা, বনগ্রাম, বলইবুনিয়া, হোগলাবুনিয়া, বহরবুনিয়া, নিশানবাড়ীয়া, মোরেলগঞ্জ, খাউলিয়া, তেলিগাতী, পুটিখালী, রামচন্দ্রপুর, জিউধরা ও বারইখালী। শরণখোলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী। বাগেরহাট সদরের বারুইপাড়া, বেতরতা, বিষ্ণুপুর, ডেমা, কাড়াপাড়া, খানপুর ও রাখালগাছি।

সাতক্ষীরা কলারোয়ার কয়লা, হেলাতলা, যুগীখালী, জয়নগর, জালালাবাদ, লাঙ্গলঝাড়া, কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া, চন্দনপুর ও দেয়াড়া। তালার ধানদিয়া, তেঁতুলিয়া, তালা, ইসলামকাটি, মাগুরা, খেসরা, জালালপুর, খলিলনগর, নগরঘাটা, সরুলিয়া ও খলিষখালী। বরিশাল সদরের কাশিপুর, চরবাড়িয়া, জাগুয়া ও টংগীবাড়ীয়া। বাকেরগঞ্জের চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি, গারুড়িয়া, ভরপাশা, রঙ্গাশ্রী ও পাদ্রীশিবপুর।

উজিরপুরের সাতলা, জল্লা, ওটরা, শোলক ও বোরোকোঠা। মুলাদীর নাজিরপুর, সফিপুর, গাছুয়া, চরকালেখা, মুলাদী ও কাজিরচর। মেহেন্দিগঞ্জের মেহেন্দিগঞ্জ ও ভাষানচর। বাবুগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর, কেদারপুর, দেহেরগতি ও মাধবপাশা। গৌরনদীর বাটাজোড়, সরিকল, খানজাপুর, বার্থি, চাদশী ও মহিলারা। হিজলার নলচিরা, মেমানিয়া, গুয়াবাড়িয়া ও বড়জালিয়া।

বানারীপাড়ার বিশারকান্দি, ইলুহার, চাখার, সালিয়াবাকপুর, বাইশারি, বানারীপাড়া ও উদয়কাঠি। বরগুনা সদরের বদরখালী, গৌরিচন্না, ফুলঝুড়ি, কেওড়াবুনিয়া, আয়লাপাতাকাটা, বুড়িরচর, ঢলুয়া, বরগুনা ও নলটোনা। আমতলীর গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া ও আরপাঙ্গাশিয়া। বেতাগীর বিবিচিনি, বেতাগী, হোসনাবাদ, মোকামিয়া, বুড়ামজুমদার, কাজিরাবাদ ও সরিষামুড়ি। বামনার বুকাবুনিয়া, বামনা, রামনা ও ডৌয়াতলা। পাথরঘাটার কালমেঘা, কাঁকচিড়া ও কাঁঠালতলী।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া, নদমুলা-শিয়ালকাঠী, তেলিখালী, ধাওয়া ও গৌরিপুর। ইন্দুরকানীর বালিপাড়া। পিরোজপুর সদরের কদমতলা, কলাখালী, টোনা ও শারিকতলা। মঠবাড়িয়ার তুষখালী, মিরুখালী, বেতমোর রাজপাড়া, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা, হলতাগুলিশাখালী। নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানা, বলদিয়া, গুয়ারেখা, দৈহারী, সোহাগদল, সারেংকাঠী, সুটিয়াকাঠী, স্বরূপকাঠী, সমুদয়কাঠী ও জলাবাড়ী। কাউখালীর আমড়াজুড়ি ও কাউখালী। নাজিরপুরের মাটিভাংগা, মালিখালী, নাজিরপুর ও সেখমাটিয়া।

ঝালকাঠি সদরের গাভারামচন্দ্রপুর, বিনয়কাঠী, নবগ্রাম, কীর্তিপাশা, বাসন্ডা, গাবখানধানসিঁড়ি, শেখেরহাট, নথুল্লাবাদ ও কেওড়া। নলছিটির ভৈরবপাশা, মগড়, কুলকাঠি, কুশঙ্গল, নাচনমহল, রানপাশা, সুবিদপুর, সিদ্ধকাঠী, দপদপিয়া ও মোল্লারহাট। রাজাপুরের সাতুরিয়া, শুক্তগড়, রাজাপুর, গালুয়া, বড়ইয়া ও মঠবাড়ী। কাঠালিয়ার চেচরীরামপুর, পাটিখালঘাটা, আমুয়া, কাঠালিয়া, শৌলজালিয়া ও আওরাবুনিয়া।

ভোলা বোরহানউদ্দিনের গঙ্গাপুর ও সাচরা। তজুমদ্দিনের চাঁদপুর, চাচরা ও সম্ভুপুর। চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ, চরকলমি, হাজারীগঞ্জ, এওয়াজপুর ও জাহানপুর। মনপুরার হাজিরহাট ও দক্ষিণ সাকুচিয়া। নরসিংদী পলাশের গজারিয়া ও ডাংগা। গাজীপুরের কালীগঞ্জের তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, বাহাদুসাদী, জামালপুর ও মোক্তারপুর। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গা, তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, বাহাদুসাদী, জামালপুর ও মোক্তারপুর।

মাদারীপুর শিবপুরের শিবচর, পাঁচ্চর, মাদবরেরচর, কুতুবপুর, কাদিরপুর, দ্বিতীয়খণ্ড, ভাণ্ডারীকান্দি, বাঁশকান্দি, বহেরাতলা উত্তর, বহেরাতলা দক্ষিণ, নিলখী, শিরুয়াইল ও দত্তপাড়া। সুনামগঞ্জ ছাতকের ভাতগাঁও, নোয়ারাই ও সিংচাপইড়। লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর বাদাম, চর পোড়াগাছা ও চর রমিজ। কমল নগরের চর ফলকন, হাজিরহাট ও তোরাবগঞ্জ।

নোয়াখালী সুবর্ণচরের চরবাটা, চরক্লার্ক, চরওয়াপদা, চর আমানউল্যাহ, পূর্বচরবাটা ও মোহাম্মদপুর। হাতিয়ার চরঈশ্বর, চরকিং, তমরদ্দি, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, জাহাজমারা ও নিঝুমদ্বীপ। চট্টগ্রাম সন্দ্বীপের বাউরিয়া, গাছুয়া, সন্তোষপুর, আমানউল্ল্যা, হরিশপুর, রহমতপুর, আজিমপুর, মুছাপুর, মাইটভাঙ্গা, সারিকাইত, মগধরা, হারামিয়া, দীর্ঘাপাড়। কক্সবাজার মহেশখালীর হোয়ানক, মাতারবাড়ী ও কুতুবজোম। কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, বড়ঘোপ, দক্ষিণধুরং, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী ও উত্তরধুরুং। টেকনাফের হ্নীলা, সাবরাং, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ ও হোয়াইক্যং।






ads
ads