৫ বছরে ধর্ষণ মামলা ২৬ হাজারেরও বেশি


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ মার্চ ২০২১, ১৯:৩৭

২০১৬ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গত ৫ বছরে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। প্রতি বছরই এর সংখ্যা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি মামলা দায়ের হয়েছে গত দুই বছরে।

বুধবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের করা একটি রিটের জবাবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে আদালত আগামী ২৩ মে পরবর্তী আদেশের জন্য তারিখ রেখেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা চার হাজার ৩৩১টি। ২০১৭ সালে চার হাজার ৬৮৩টি। ২০১৮ সালে হয় চার হাজার ৬৯৫টি মামলা। ২০১৯ সালে ছয় হাজার ৭৬৬টি মামলা করা হয়। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগে ছয় হাজার ২২০টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণের মামলা সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৯৫টি।

ধর্ষণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা, সালিস বা মীমাংসা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং ইতিপূর্বে এ বিষয়ে দেয়া তিনটি রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন চেয়ে গত বছরের ১৯ অক্টোবর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে একটি রিট করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

সেদিন হাইকোর্ট ধর্ষণের ঘটনায় মধ্যস্থতা, সালিস বা মীমাংসা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় গত পাঁচ বছরে সারাদেশের থানা, আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কতগুলো মামলা হয়েছে, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। চার মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সে অনুসারে পুলিশের মহাপরিদশক (আইজিপি) ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিবেদন দাখিল করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক, ইয়াদিয়া জামান, মো. শাহীনুজ্জামান ও সৈয়দা নাসরিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম এম জি সারোয়ার।

শুনানিতে আইজিপির প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরে আইনজীবী অনীক আর হক বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনা প্রতিবছর বাড়ছে। থানায় পাঁচ বছরে ২৬ হাজার ৬৯৫টি মামলা হয়েছে। তার বাইরে ট্রাইব্যুনালেও মামলা হয়। বাকিদের কাছ থেকে প্রতিবেদন আসেনি।’

রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রতিবেদন তুলে ধরে আইনজীবী বলেন, ‘হাইকোর্টের ইতিপূর্বের রায়ের নির্দেশনা অনুসারে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর এই সেল গঠন করা হয়। হাইকোর্টের তিনটি রায় ছিল। এসব রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ আদালতের আদেশের পরই তা করা হয়েছে।’

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘পাঁচ বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও থানায় কতগুলো ধর্ষণ–সম্পর্কিত মামলা করা হয়েছে, সেই তথ্য পাঠানোর জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। আইজিপি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিচারক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে তথ্য এলে পরবর্তী প্রতিবেদন দেয়া যাবে।’ এজন্য দুই মাস সময়ের আরজি জানান তিনি। শুনানি নিয়ে আদালত আগামী ২৩ মে পরবর্তী তারিখ রাখেন।

মানবকণ্ঠ/এনএস






ads
ads