‘জাতির পিতা বাঙালির জন্য যা করেছেন, তা ধরে রাখতে হবে’

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:১০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির জন্য যা করে গেছেন, তা ধরে রাখতে হবে। আমাদের যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে, তা ধরে রাখতে হবে।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারত ভাগের পর নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে বাঙালির ভাষার আঘাত আসার সেই ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা আঘাত হেনেছিল আমাদের সংস্কৃতির ওপর, ভাষার ওপর। এর প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। যখন পাকিস্তানিরা সিদ্ধান্ত নেয় যে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হবে, তখনই তার প্রতিবাদ শুরু করেন।

‌‘শুধু প্রতিবাদই নয়, ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। আর সেই সংগ্রাম করতে গিয়ে সেই পাকিস্তান আমলে, একটি রাষ্ট্র হওয়ার বছরও পার করেনি তখন, তিনি বারবার কারাবরণ করেন।’ যোগ করেন সরকার প্রধান।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা যে রিপোর্ট দিয়েছে, ৪৮ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত, এ রিপোর্ট নিয়ে আমরা সাত খণ্ডে বই আকারে প্রকাশ করেছি। এগুলো পড়লে আপনারা সব জানতে পারবেন; কবে কোন আন্দোলনের লিফলেট বিতরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু, কোথায় কোন আন্দোলনে কি বক্তব্য দিয়েছেন, তার গতিবিধি নিয়ে তারা রিপোর্ট করেছে। আপনারা এগুলো পড়বেন। বইগুলোতে ৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্দোলনের অংশটুকু সব আছে। এই রিপোর্টগুলো ছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। কিন্তু এর থেকেই আমরা ইতিহাসের মহামূল্যবান তথ্য জানতে পারি।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে আর কোনো দেশে আর কোনো নেতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট এভাবে প্রকাশ হয়েছে কিনা জানি না। আমাদের দেশেও অন্য কোনো নেতার বিরুদ্ধে এমন রিপোর্ট আছে কিনা জানি না, থাকলেও তা কয়েক পৃষ্ঠার হয়ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৬টি ফাইলে ৪৮ খণ্ডের রিপোর্ট ছিল, তার পৃষ্ঠা ছিল ৪৬ হাজার। বেবি মওদুদসহ আমি ২০ বছর এটার ওপর কাজ করেছি। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমি এসবির কিছু অফিসারদের সহায়তায় এই রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করেছি। বিভিন্ন জেলা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছি। ভাষা আন্দোলনসহ বঙ্গবন্ধুর সব আন্দোলন-সংগ্রাম জানতে এই বই পড়তে হবে। এই বইয়ে প্রতিটি খণ্ডে আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads
ads