ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

ভোটের মাঠে নতুন অস্ত্র ‘বিলাই খামচি’


poisha bazar

  • শাহীন করিম
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ২০:৪০

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর ১২ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বার কোয়ার্টার এলাকায় আপন ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই খুন হয়েছেন। নিহত নিজাম উদ্দিন মুন্না (৩৩) পাহাড়তলী ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কর্মী। দুই ভাই দুই কাউন্সির প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। যদিও পারিবারিক বিরোধে ওই হত্যাকাণ্ড বলে দাবি পুলিশের।

এদিকে বন্দর নগরীর লালখান বজার এলাকায় চসিক ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ওপর নতুন অস্ত্র ‘বিলাই খামচি’ প্রয়োগ করার অভিযোগ মিলেছে। শরীরের সংস্পর্শে এলে প্রচুর চুলকানি তৈরি করে এমন গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ বিলাই খামচি বা স্থানীয়ভাবে বাঁদরওলা বলা হয়।

অন্যদিকে চসিক নির্বাচনে ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিএনপির কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ইসমাইল বালীকে আটক করেছে পুলিশ। পাথরঘাটা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নির্বাচনি কর্মকর্তা আহতের ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে। পাথরঘাটা ছাড়াও ১৪ নম্বর লালখান বাজার এলাকাতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখানে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। এ ভাবে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার শেষ হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ।

এই নির্বাচনী সহিংসতায় চট্টগ্রামে আপন বড় ভায়ের হাতে খুন হয়েছেন আরেক ছোট ভাই। গতকাল সকালে পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া বারো কোয়ার্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম নিজাম উদ্দিন মুন্না (৩৩)। অভিযুক্ত তার বড় ভাই সালাউদ্দীন কামরুল। এদের মধ্যে নিজাম উদ্দীন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবের আহমদের সমর্থক ও অভিযুক্ত সালাউদ্দীন কামরুল আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আমিনের সমর্থক।

স্থানীয় সূত্র মতে, নির্বাচন নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সকালে ভোট শুরুর আগেই দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হলে মুন্নাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় কামরুল। ভোটযুদ্ধে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে পুলিশের দাবি, এটি রাজনৈতিক বা নির্বাচনের কারণে নয়, পারিবারিক বিরোধের ফলে এক ভাইয়ের হাতে অন্য ভাই খুন হন।

তবে ছোট ছেলে নিজাম ওরফে মুন্নাকে খুনের জন্য বড় ছেলে সালাউদ্দীন কামর’লের কঠোর বিচার দাবি করেছেন তাদের মা। মা জিন্নাত আরা বেগম বলেন, আমার ছেলের ফাঁসি চাই। ও প্ল্যান করে খুন করেছে। আমার বউমা বোবা, কথা বলতে পারে না। তার মাসুম দুই সন্তানের কী হবে?। তবে তিনি স্বীকার করেন, দুই ভাই দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছিলেন। পারিবারিক জায়গা নিয়েও বিরোধ ছিল। আমার ছেলের খুনের জন্য আমার আরেক ছেলে কামরুল দায়ী। আমি কামর’লের ফাঁসি চাই।

তিনি আরো বলেন, আমার বড় নাতি ইমন দেখছিল নিজাম ভাইয়ের পা ধরে বলছিল মাফ করে দাও। কিন্তু কামর’ল মাফ করেনি। খুন করে ফেলেছে। নিহত নিজামের স্ত্রী নাসরিন আকতার সুমি বাকপ্রতিবন্ধী। তার ছেলে ইব্রাহিমের বয়স মাত্র ৮ মাস। মেয়ে বিবি মরিয়মের বয়স আড়াই বছর। নাসরিন আকতার সুমি নিজের ভাষায় বলার চেষ্টা করছিলেন সব ঘটনা। বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তার মা ও শাশুড়ি। সুমি জানান, অনেক দিন ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার করে আসছিল কামরুল। হত্যার হুমকিও দিয়েছিল।

ভোটের মাঠে নতুন অস্ত্র ‘বিলাই খামচি’: শরীরের সংস্পর্শে এলে প্রচুর চুলকানি তৈরি করে এমন গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ বিলাই খামচি দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে এ উদ্ভিদকে বাঁদরওলা বলা হয়। এটি দেহের সংস্পর্শে এলে প্রচুর চুলকানি তৈরি করে। ফলে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রায় ২৪ ঘণ্টাজুড়ে অস্বস্তিতে থাকতে হয়। ইংরেজিতে এ উদ্ভিদ ভেলভেট বিন নামে পরিচিত। ইংরেজিতে একে মাংকি ট্যামারিন্ডও বলা হয়।

চট্টগ্রামের লালখান বাজার ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এফ কবির মানিকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিলাই খামচি প্রয়োগের অভিযোগ করেন আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলালের নারী সমর্থকরা। ভোটের দিন শহীদনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারী আসমা বেগম বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর নারী সমর্থকরা তাদের ওপর বিলাই খামচি ছিটিয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা এসব করেছে। তাদের একাধিক নারীর সদস্য আক্রান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আসমা।

চসিক নির্বাচনে ভোটের শুরুটা হয়েছিল ভালই। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে খুলশী ইউসেপ স্কুল কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে আলাউদ্দিন আলো (২৮) নামের একজন নিহত হন। এ ব্যাপারে চমেক মেডিকেল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. জহির জানান, নগরীর খুলশী আমবাগান এলাকার ইউসেপ স্কুল কেন্দ্র থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে আলাউদ্দিন আলোর মৃত্যু হয়।

সকাল ৮টায় একযোগে ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে শুর’ হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ। এতে চট্টগ্রামের নয়া নগর পিতা (মেয়র) হওয়ার দৌড়ে নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মনোনিত প্রার্থীরা। ভোটগ্রহণ চলে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পরে সেই ফলাফল চলে যায় নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সব কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে রাতে

বেসরকারিভাবে বিজয়ী নগরপিতার নাম ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে বিজয়ী ৩৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলরের নামও ঘোষণা করা হয়। এ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত করতে ২৪ প্লাটুন বিজিবি, ২৫ প্লাটুন র‌্যাব, আনসারসহ প্রায় ১৫ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে নির্বাচন কমিশন।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads
ads