ভবনের নকশা করবে সরকার

ভবনের নকশা করবে সরকার
- মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২:২৩

দুর্নীতি-হয়রানি রোধে সরকারি আবাসন প্রকল্পের প্লটের আয়তন অনুযায়ি ভবনের নির্দিষ্ট নকশা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আয়তনভেদে প্লটের জন্য একাধিক নকশা থাকবে। পাঁচ কাঠার একটি প্লটের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি নকশা থাকবে। সেখান থেকে পছন্দ করা নকশা অনুযায়ি বাড়ি নির্মাণ করবেন প্লটের মালিক। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজউকসহ সরকারি সংস্থার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে প্লট মালিকদের ভোগান্তি কমবে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

এ দিকে পল্টের নির্দিষ্ট বাড়ি নির্মাণের নকশা করার বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি বৈঠক করার জন্য ইতোমধ্যে নোটিশও দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ (উন্নয়ন অনুবিভাগ-১)।

তিনি বলেন, বৈঠকে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অন্যদিকে গত ২৬ নভেম্বর এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়া, ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নকশা নির্দিষ্ট করে দেয়ার বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হলেও সব বিষয়ে চ‚ড়ান্ত হয়নি। তবে আজ যে বৈঠক আহŸান করা হয়েছে তাতে পল্টের নির্দিষ্ট নকশা করার বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

জানা যায়, প্রাথমিক সভায় যে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা হচ্ছে - আয়তনভেদে প্লটের জন্য একাধিক নকশা থাকবে। বিশেষ করে পাঁচ কাঠার একটি প্লটের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি নকশা থাকবে। সেখান থেকে পছন্দ করা নকশা অনুযায়ি বাড়ি নির্মাণ করবেন প্লটের মালিক। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজউকসহ সরকারি সংস্থার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে প্লট মালিকদের ভোগান্তি কিছুটা কমবে। অবশ্য রাজউক অথবা সংশ্লিষ্ট সংস্থা নকশা অনুযায়ি ভবন নির্মাণ হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করা হবে। গত ২৬ নভেম্বরের সভার কার্যবিবরণীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সভার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির মতামত জানতে চেয়েছেন।

পরবর্তীতে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা মতামত দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে লিখিত আকারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকতা জানান, আজ যে বৈঠক আহŸান করা হয়েছে। এই বৈঠকে পল্টের জন্য ভবণের ওপর নকশার বিষয়টি চ‚ড়ান্ত হতে পারে। সূত্র জানায়, ঢাকায় রাজউকের আওতাধীন এলাকায় এখন ভবন নির্মাণ করা হয় ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ি। বর্তমানে ভবন নির্মাণের জন্য প্লটের আয়তন অনুযায়ি রাজউকের কাছ থেকে প্রথমে ছাড়পত্র নিতে হয়।

পরে নকশা বা নির্মাণ অনুমোদন নিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ি, আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে ছাড়পত্র ও ৪৫ দিনের মধ্যে নকশার অনুমোদন দেয়ার কথা। কিন্তু তদবির ও দৌড়ঝাঁপ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নকশার অনুমোদন পাওয়া যায় না। আবার নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। প্লট মালিকের ইচ্ছেমতো নকশার ক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, এখন ভবন কত উচ্চতায় নির্মাণ করা যাবে, তা নির্ভর করে প্লটের আকার, পাশের রাস্তা ও ভ‚মির প্রকৃতির ওপর।

এতে একই এলাকায় একই আয়তনের প্লটে ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি ও উচ্চতার ভবন নির্মাণ হয়। ফলে আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। পাশাপাশি ভবনের সংখ্যা অনুযায়ি নাগরিক পরিসেবার চাহিদা নির্ধারণও কঠিন হয়ে পড়ে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একাধিক সূত্র জানায়, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে। রাজউক সূত্র আরো জানায়, রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২৫ হাজার ১৬টি ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১ হাজার ৭৪০টি প্লট রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হলে এসব প্রকল্প এলাকার প্লটের মালিকেরা নকশা অনুমোদনের হয়রানি থেকে মুক্ত হবেন। বিভিন্ন সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান সংশোধনের কাজ কতটুকু অগ্রসর হয়েছে এমন প্রশ্নে রাজউক চেয়ারম্যান সাঈদ নূর আলম মানবকণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশ আসলে আমরা রাজউকের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।

তিনি বলেন, গত ২৬ নভেম্বরের পর পর্যায়ক্রমে তিনবার বৈঠক হয় নকশা নির্দিষ্ট করে দেয়ার বিষয়ে। এরমধ্যে অনেকগুলো নকশা জমা পড়েছে। আইডিয়াল নকশাগুলোকে সরকার অনুমোদন দেবে। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত আবাসিক এলাকাগুলোতে ভবনের নকশা নির্ধারিত থাকে। ফলে নির্মাণ-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, পরিবেশ সংরক্ষিত হয় এবং মানুষের হয়রানি কমে যায়। আমাদের দেশেও এটি দরকার। তাহলে মানুষ অনেক জটিলতা, হয়রানি ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকবে।

 






ads
ads