এলো ৫০ লাখ ডোজ টিকা

নমুনা পরীক্ষার পর পাঠানো হবে সারা দেশে

নমুনা পরীক্ষার পর পাঠানো হবে সারা দেশে
- সংগৃহীত

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ০০:২৭

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সরকারিভাবে কেনা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনা প্রতিরোধকারী টিকা ‘কোভিশিল্ড’-এর প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট টিকার প্রথম চালান ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে টিকাগুলো সংরক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর টঙ্গীতে অবস্থিত বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউজে। সেখান থেকে প্রতিটি ব্যাচের টিকার নমুনা পাঠানো হবে সরকারের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে। পরীক্ষার পর সবকিছু ঠিক থাকলে ছাড়পত্র দিবে ড্রাগ ল্যাবরেটরি। ছাড়পত্র পাওয়ার পর সরকারের চাহিদামতো দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা টিকা পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো।

এদিকে আগামীকাল বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের এক নার্সের শরীরে পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে দেশে শুরু হবে বহু আকাক্সিক্ষত করোনার টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম। নার্স ছাড়াও আরো বিভিন্ন পেশার আরো ২০ জনকে ওইদিন দেয়া হবে করোনার টিকা। বিকাল সাড়ে তিনটায় করোনার টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী প্রথম পাঁচজনের টিকা দেয়ার সময় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘উদ্বোধনী টিকাদান অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। বক্তব্য দেবেন শুধু স্বাস্থ্যমন্ত্রী।’

তিনি বলেন, মোট ২০ জনকে ওই দিন টিকা দেয়া হবে। তবে প্রথম ৫ জনকে টিকা দেয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে এ অনুষ্ঠান বিটিভি সরাসরি প্রচার করবে। অন্যদিকে নিজস্ব সীমানায় বসবাসকারীদের মাঝে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রয়োগের লক্ষ্যে ৮৪ জন ডাক্তার ও নার্সকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটরিয়ামে করোনার টিকা প্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ডিএসসিসি।

এদিকে গতকাল দেশে টিকার প্রথম চালান পৌঁছার পর বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট আমাদের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসবে। সেই প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী পাঠানো ৫০ লাখ ডোজ টিকা আমরা গ্রহণ করলাম। এটাকে আমরা এখন টঙ্গীতে অবস্থিত আমাদের নতুন ওয়্যারহাউজে সংরক্ষণ করব। কোল্ড চেইন মেনটেইন করে সেখানে টিকা রাখা হবে।

তিনি বলেন, ওয়্যারহাউজ থেকে প্রতিটি ব্যাচের টিকার নমুনা পাঠানো হবে সরকারের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে। পরীক্ষার পর সবকিছু ঠিক থাকলে ছাড়পত্র দেয়া হবে। ছাড়পত্র পাওয়ার পর টিকাগুলো ৬৪টি জেলায় পৌঁছে দেবে বেক্সিমকো। আমার ধারণা, ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে সরকার যেখানে পৌঁছে দিতে বলবেন আমরা সেখানে পৌঁছে দিতে পারব।

নাজমুল হাসান জানান, টিকার প্রতিটি কার্টনে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস রাখা হয়েছে। এই ডিভাইস প্রতি পনেরো মিনিট পর পর সেরাম ইনস্টিটিউটে তাপমাত্রার হালনাগাদ তথ্য পাঠাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা টিকার কার্টনগুলো প্রথম দেখবেন। এরপর প্রতিটি কার্টন খোলা হবে। সেখানে টেম্পারেচার মনিটরিং ডিভাইস দেয়া আছে প্রতিটি কার্টনের ভেতরে। টিকা পৌঁছে দেয়ার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে দায় বেক্সিমকো নেবে।
তিনি বলেন, পুরো সময় ওই টিকা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার কথা। সেটা যাতে হয়, সে কারণেই কার্টনে ওই ডিভাইস রাখা হয়েছে। আমাদের দেখাতে হবে যে পুনে থেকে মুম্বাই, সেখান থেকে ঢাকা হয়ে আমাদের ওয়্যারহাউজ এবং সেখান থেকে জেলা পর্যায়ে পৌঁছাতে কোথাও কোনো কোল্ড চেইন ব্রেক হয়নি। যদি কোনো ড্যামেজ (ক্ষয়ক্ষতি), শর্টেজ (স্বল্পতা) বা কোনো রকমের সমস্যা থাকে, তাহলে আমরা তা চেঞ্জ করে দেব। টিকা নিয়ে সমস্ত রকমের দায়িত্ব বেক্সিমকোর।

বেক্সিমকোর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তারাও টিকা গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

 






ads
ads