সংসদে দীর্ঘদিন পর বসবে এমপিদের মিলনমেলা


poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১১:১৩

একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশন বসছে কাল সোমবার। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের তৃতীয় বছরের প্রথম অধিবেশনও এটি। কেউ কেউ এটিকে শীতকালীন অধিবেশন বলেও অভিহিত করেন। প্রাণসংহারী করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মুখ দেখাদেখি না হলেও এবার অধিবেশনের প্রথম দিনেই একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কোভিড নেগেটিভ সনদধারী সংসদ সদস্যরা।

স্বল্পমেয়াদের এই অধিবেশনে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। সাধারণত বছরের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘায়িত হলেও করোনার কারণে এবারের অধিবেশন এক সপ্তাহ চলতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন সংসদ সংশ্লিষ্টরা।

সংবিধানের ৭৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এবারো বছরের শুরুর অধিবেশনে প্রথম দিনই থাকছে রাষ্ট্রপতির ভাষণ। ১৮ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় অধিবেশনের শুরুতেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত দুই ধাপে হয়ে থাকে। একটি কপি হচ্ছে বিস্তারিত অর্থাৎ সরকারের আর্থিক বছরের বিবরণ আর একটি যেটি রাষ্ট্রপতি পাঠ করে থাকেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ সদস্যগণ ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।

সংসদ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির এবারের ভাষণে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা থাকবে। পাশাপাশি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ ও সাফল্যসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভাষণে স্থান পাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে আরো যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে-রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে গৃহীত কর্মসূচি এবং রূপকল্প ২০৪১ প্রণয়ন, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নকল্পে বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বেষ্টনী প্রসার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং এর জন্য গৃহীত কর্মসূচি, প্রশাসনিক নীতি-কৌশল উন্নয়ন দর্শন এবং অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনাসহ ইত্যাদি।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিগত কয়েক অধিবেশনের মতো এবারো কড়া বিধিনিষেধ মেনেই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলবে অধিবেশন। প্রথম দিন একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেলেও পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে ভাগ ভাগ করে অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন সংসদ সদস্যগণ। করোনা মহামারীর কারণে ৮০-৯০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে অধিবেশন চলবে।

তালিকায় যে দিন যার নাম থাকবে সেদিনই তিনি আসতে পারবেন। তবে অবশ্যই করোনা নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। এজন্য ১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই দিন সংসদ কাভার করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীদেরও করোনা নমুনা পরীক্ষা করা হয়। অধিবেশন পরিচালনার জন্য সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদেরও সূচি মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারো অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ৫ কার্য দিবসের মতো চলতে পারে। তবে বিষয়টি কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ঠিক হবে।’

সংসদে এমপিদের উপস্থিতি কেমন হবে জানতে চাইলে বলেন, প্রথম দিন যেহেতু মহামান্য রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন, তাই প্রথম দিন সকল সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক। যাদের করোনা নেগেটিভ আসবে তারাই কেবল অধিবেশনে যোগ দেয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর বিগত কয়েক অধিবেশনের মতো ৮০-৯০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে অধিবেশন চলবে। সংসদ সদস্যদের করোনা পরীক্ষার জন্য ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি রাখা হয়েছে।

এদিকে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের অধিবেশন মাত্র ১০ দিন চলতে পারে। যদিও বিষয়টি চূড়ান্ত হবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে। স্পিকার চাইলে সংসদ নেতার সঙ্গে আলাপ করে অধিবেশনের সময়সীমা বাড়াতে বা কমাতে পারেন।

সংসদ এলাকায় বিধি নিষেধ: একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশতম অধিবেশনকে নির্বিঘ্ন রাখতে শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, শনিবার রাত ১২টা থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যে কোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত, বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রীন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত, মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমণ্ডি-১৬ (পুরাতন-২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এ সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব রাস্তা ও গলিপথ এই নির্দেশের আওতায় পড়বে।

 






ads
ads