ফেব্রুয়ারিতে ইউপি ভোটের তফসিল

ফেব্রুয়ারিতে ইউপি ভোটের তফসিল
- সংগৃহীত

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:৫২

আগামী মাসের শুরুতেই প্রথম দফার তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে। দলীয় প্রতীকের এই ভোটে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপজেলা সদরের পাশের ইউপিতে ইভিএম আর বাকিগুলোতে ব্যালটে ভোট গ্রহণের চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারা দেশে নির্বাচন উপযোগী ৪ হাজারের বেশি ইউপির ভোট কয়েক ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা ইসির। এরমধ্যে রোজার আগেই দুই ধাপের ভোট শেষ করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৭৫০ ইউপিতে ভোট গ্রহণ হবে। প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের জন্য ১১, ১৩, ১৫ ও ১৮ মার্চ সম্ভাব্য তারিখ চিন্তা করা হচ্ছে। আর দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ হবে মার্চের শেষ দিকে। মার্চের ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ ভোট গ্রহণ হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এ বিষয়ে বলেন, আগামী মার্চে ২১ তারিখে বেশ কিছু ইউপির মেয়াদ শেষ হবে। এর ৪৫ দিন আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার চিন্তা করা হচ্ছে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট ও ইভিএমে দুই পদ্ধতিতেই ভোট গ্রহণ হবে। সে হিসাবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ নির্বাচনের তফসিল হতে পারে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে পরিষদের মেয়াদের বিষয়ে বলা হয়েছে- ‘কোন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ...সংশ্লিষ্ট পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ হতে পাঁচ বছর সময়ের জন্য উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।’ পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে- ‘পরিষদ গঠনের জন্য কোন সাধারণ নির্বাচন ওই পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ হতে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।’

আইনে উল্লেখ রয়েছে- ‘দৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্যবধি কোনো কারণে নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত, যা আগে ঘটবে, সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারে।’
আইন অনুযায়ী আগামী ২১ মার্চের মধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। ২০১৬ সালের ২২ মার্চ শুরু হয়ে কয়েক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হয় ওই বছরের ৪ জুন। আইন অনুযায়ী, কোনো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ হবে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে এ বছরের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে।

আর যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ জুনের প্রথম দিকেই শেষ হবে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করতে হবে এ বছরের মে মাসের মধ্যে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ে ভোট আয়োজনে জোড় প্রস্তুতি রয়েছে ইসির। প্রথম ধাপের ভোট মার্চের মাঝামাঝি হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট মার্চের শেষে এবং এর পর এপ্রিলের মাঝামাঝিতে রোজা শুরু হবে। তৃতীয় ধাপের ভোট হতে পারে মে অথবা জুনের শুরুতে।

 






ads