বিনামূল্যে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু শনিবার


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:০৩

আগামী শনিবার (৬ ডিসেম্বর) থেকে দেশে বিনামূল্যে করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী শনিবার থেকে প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হচ্ছে।

জেলাগুলো হচ্ছে- পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মাদারীপুর (মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতাল) এবং সিলেট (শহীদ শামসুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল)।

দেশে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা কম হওয়া নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, দ্রুত ও সহজে ফল জানার অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু হলে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়বে। এটি করোনা রোগী শনাক্ত, মহামারিতে নেওয়া পরিকল্পনাসহ নানা নীতিনির্ধারণেও সাহায্য করবে।

সরকারের কোভিড-১৯ পরীক্ষা নীতিমালায় বলা হয়েছে, অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করতে বিশেষায়িত কোনো ল্যাবরেটরির প্রয়োজন হয় না। তবে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার নির্দিষ্টতা প্রায় শতভাগ হলেও সংবেদনশীলতা কম। ফলে কোভিড-১৯ সংক্রমিত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ ফলাফল পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নেগেটিভ এলে পিসিআর বা জিন এক্সপার্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। আর অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় পজিটিভ হলে ওই ব্যক্তিকে নিশ্চিত পজিটিভ হিসেবে গণ্য করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য কোন কিটটি সবচেয়ে ভালো বা কার্যকর, সেটি নিশ্চিত না হওয়ায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু করতে দেরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত দুটি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কী?

এখন পর্যন্ত বিশ্বে আরটি-পিসিআর পরীক্ষাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। তবে এই পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহের পর ফল পেতে একদিনের মতো সময় লেগে যায়। সেখানে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে আধা ঘণ্টার মধ্যে ফল জানা যায় বলে বিশ্বের নানা দেশই এর দিকে ঝুঁকেছে। বাংলাদেশেও অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি আগে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্টে নাক কিংবা মুখবিহ্বরের শ্লেষ্মা ব্যবহার করা হয়। তবে পিসিআর টেস্টের মতো আরএনএ বিশ্লেষণের পরিবর্তে এখানে ভাইরাসের প্রোটিন শনাক্ত করা হয়। আবার রক্ত পরীক্ষা করেও অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্ভুলতার কারণে বরাবরই আরটি-পিসিআরের পক্ষে বলে আসছে। কারণ, আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় ভাইরাসের জৈব রাসায়নিক উপাদানটি বিবর্ধিত করে বলে সংগৃহীত নমুনায় ভাইরাসের পরিমাণ নগন্য হলেও শনাক্ত করতে পারে।

পক্ষান্তরে অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ভাইরাসের প্রোটিনকে বিবর্ধিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই বলে নমুনায় ভাইরাসের পরিমাণ কম হলে তখন আর তা শনাক্ত হয় না।

ফলে রোগী সংক্রমিত হলেও তা অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ আসতে পারে, যাকে বলা হয় ‘ফলস নেগেটিভ’। তখন আবার লক্ষণ থাকলে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে হয়।

এছাড়া রয়েছে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা, যাতে সংক্রমণের ফলে দেহে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হয়, তা থেকে ধরে নেওয়া হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেও অ্যন্টিবডি টেস্টে পজিটিভই দেখাবে।

তবে আরটি-পিসিআর ও অ্যান্টিজেন টেস্টে নিশ্চিত হওয়া যায়, কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না?

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads