রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা লড়তে ৫ লাখ ডলার দিয়েছে বাংলাদেশ

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৭:৫৬

রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়াকে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য ৫ পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে বাংলাদেশ। নাইজারে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এই অর্থ সহায়তার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, গাম্বিয়াকে আইনি লড়াইয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা ইতিমধ্যে ওআইসির তহবিলে এ অর্থ প্রদান করেছি।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। মামলাটি চালাতে গিয়ে অর্থসংকটে পড়েছে গাম্বিয়া। এ জন্য দেশটি ওআইসির সদস্যদেশগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ চেয়েছে। মূলত আইসিজেতে মামলা পরিচালনাকারী আইনি পরামর্শকদের ফির জন্য প্রায় ৫০ লাখ ডলারের তহবিল চায় গাম্বিয়া। আফ্রিকার দেশ নাইজারে অনুষ্ঠিত ওআইসির বৈঠকে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী দাউদা এ জেলো বিষয়টি উত্থাপন করেন।

নাইজারে ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলে (সিএফএম) ঢাকার প্রতিনিধি দলে নেতৃত্বদানকারী পাটোয়ারী বলেন, ওআইসির জেনারেল সেক্রেটারিয়েট এখন আইসিজে-তে গাম্বিয়ার লড়াইয়ে সহায়তার জন্য একটি বিশেষ হিসাব খুলেছে। আর পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিও তহবিলের জরুরি প্রয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা এ জালো সিএফএম-এ রোহিঙ্গা মামলার সর্বশেষ আপডেট উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, এ আইনি মামলার জন্য আমি ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর কাছে জরুরি, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের আহ্বান জানাচ্ছি। সিএফএম-এ রোহিঙ্গা সঙ্কট মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে।

তিনি বলেন, মামলাটি চালাতে বিশেষ করে আইনজীবীদের অর্থ প্রদানের জন্য গাম্বিয়ার প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দরকার। এই মামলার বাদীপক্ষে দাঁড়ানোর জন্য এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি নামী আইন সংস্থাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় আইনি সংস্থাটি সেপ্টেম্বর ২০১৯ সাল থেকে যে আইনি সেবা দিয়ে আসছে সেজন্য তারা এখনও তেমন উল্লেখযোগ্য অর্থ পায়নি। সবেমাত্র এ মাসে এই আইনি সংস্থাকে তিন লাখ মার্কিন ডলার প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের প্রাপ্য পরিমাণের ১০ শতাংশেরও কম।

গাম্বিয়ার মন্ত্রী বলেন, এই মামলাটির লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাধান। তিনি সতর্ক করে দেন যে, আইসিজে-তে রোহিঙ্গা সমস্যা সংক্রান্ত ওআইসির সম্ভাব্য যাবতীয় ব্যবস্থা মামলার স্বার্থে তার দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা উচিত।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, ওআইসির যেকোনো অসমন্বিত ব্যবস্থা মামলাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং বিষয়টিকে আরো জটিল করতে পারে।

ওআইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ঢাকা ছাড়াও ওআইসির ৫৭ সদস্যের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও নাইজেরিয়া এ পর্যন্ত আইসিজে’র এ মামলায় গাম্বিয়াকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

২৭-২৮ নভেম্বর নাইজারের রাজধানী নিয়ামে ওআইসির ৪৭তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় যেতে পারেননি।

মিয়ানমারে রাখাইনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়। দেশটিতে অনেক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয় এবং তাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।  এ ঘটনায় গাম্বিয়া গত বছরের নভেম্বর মাসে ওআইসি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের সহায়তায় আইসিজে-তে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করে। ১০-১২ ডিসেম্বর আইসিজে তার প্রথম শুনানি করে। গত ২৩ জানুয়ারি আইসিজে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার পরবর্তী ঘটনা রোধে অস্থায়ী ব্যবস্থার আদেশ দেয়ার ঐতিহাসিক সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads