বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ: প্রধানমন্ত্রী

- ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৪৩,  আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৭:৪১

বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বলেছিলেন– বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ। আর সেই সেতুবন্ধ করতে গেলে আমাদের ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করতে সরকার নৌ, রেল ও আকাশপথের সার্বিক উন্নয়নে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

রোববার (২৯ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যমুনা নদীর ওপর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে এই দুটির সঙ্গে যদি আমরা সম্পৃক্ত হতে পারি, তা হলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বাড়বে। ব্যবসাবাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। কাজেই আমাদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো রেলের ওপরও আঘাত এসেছিল। ওই সময় যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা না করে ক্ষমতাকে ভোগ করে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলায় ব্যস্ত ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে রেললাইন সংকোচন শুরুর পাশাপাশি রেলে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। রেলকে প্রায় গলাটিপে হত্যা করতে গিয়েছিল বিএনপি সরকার। আমরা ক্ষমতায় এসে এখন আবার তাকে জীবিত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে রেলযোগাযোগকে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে যে, একেবারে ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী হয়ে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাব। তারও সমীক্ষা আমরা শুরু করব এবং সেই উদ্যোগ নিয়েছি।

যমুনায় রেল সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত; কারণ একসময় এখানে সেতু করার ব্যাপারে আমাকে অনেক তর্ক করতে হয়েছে, অনেক দেনদরবার করতে হয়েছে। আজকে একটা আলাদা সেতু হয়ে যাচ্ছে, আমি মনে করি এতে আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি তো হবেই এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবেও আমরা আরও সমৃদ্ধ হতে পারব, যা আমাদের দেশকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত করবে।

এ সময় গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু থেকে ৩০০ মিটার উত্তরে রেল সেতুটি নির্মাণ করা হবে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হলেও সংশোধিত প্রকল্পে সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। যদিও ডাবল লাইন হওয়ায় সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বিবেচনা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আর প্রকল্প ব্যয় প্রথমে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৪৩১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে এটি হবে দেশের বৃহত্তম রেল সেতু। রাজধানী ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই রেলসেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads