সেলসম্যান থেকে যে 'কালো কায়দায়' হাজার কোটি টাকার মালিক গোল্ডেন মনির

গোল্ডেন মনির যে 'কালো কায়দায়' হাজার কোটি টাকার মালিক

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২১ নভেম্বর ২০২০, ১৫:০২


রাজধানীর গাউছিয়ায় কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মো. মনির হোসেন। এরপর শুরু করেন অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি এবং ভূমি দখল বাণিজ্য। ১৯৯০ এর দশকের সেলসম্যান মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনির এখন হাজার কোটি টাকার অধিক মূল্যের সম্পদের মালিক।

জানা গেছে, ক্রোকারিজের ব্যবসা দিয়ে শুরু। পরে লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে মালামাল আনতেন। এরপর স্বর্ণ চোরাকারবার শুরু করলে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শুধু রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় শুধু সিল নকল করে রাজধানীতেই ২০০ বেশি প্লট কব্জা করেছেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে র‍্যাব।

শনিবার (২১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনির অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছেন এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত ১০টা থেকে র‍্যাব অভিযান শুরু করে। চলে রাতভর। তার ছয়তলা ভবনের বাসায় প্রতিটি ফ্লোরে তল্লাশি চালানো হয়।

গোল্ডেন মনিরের বাসায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। মনিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব-৩ এর অপস অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক জানান, মনিরের বাড়ি থেকে নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, চার লিটার মদ, ৮ কেজি স্বর্ণ, একটি বিদিশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব অস্ত্র ও মদের পাশাপাশি ৯ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করেছে।

অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখায় মনিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান ফারজানা।

মনিরের বাড়িতে পাঁচটি গাড়ি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনটি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র নেই বলে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা। মনিরের ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার উপর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। বাড্ডা, নিকেতন, কেরানীগঞ্জ, উত্তরা, নিকুঞ্জে দুইশর বেশি প্লট রয়েছে তার।

র‌্যাব জানিয়েছে, মনিরের বিরুদ্ধে রাজউকের সিল নকল করে ভূমিদস্যুতার একটি এবং দুদকের একটা মামলা রয়েছে। এছাড়া মনিরের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়। গোল্ডেন মনিরের আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি ভূমিদস্যু। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া সিল বানিয়ে সে বিপুল পরিমাণ ভূমি দখল করে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। ডিআইটি প্রজেক্ট ছাড়াও বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জে তার ২০০ বেশি প্লট আছে বলে র‍্যাব জানতে পেরেছে। রাজউকের সম্পত্তি বেদখল করে এবং স্বর্ণ চোরাচালানে করে বর্তমানে তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটিরও বেশি।

নাম উল্রেখ না করে র‌্যাব জানিয়েছে, মনির একটি রাজনৈতিক দলে ‘অর্থ জোগানদাতা’।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আশিক বিল্লাহ বলেন, গোল্ডেন মনিরের সাথে প্রাথমিকভাবে আমরা একটি রাজনৈতিক দল ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে জানতে পেরেছি। সেই দলটিতে তিনি অর্থের জোগান দিতেন।

মো. মনিরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে- একটি মামলা হচ্ছে রাজউক সংক্রান্ত। রাজউকের ভুয়া সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি ভূমিদস্যুতা এবং আরেকটি হচ্ছে দুদকের একটি মামলা চলমান। গোল্ডেন মনিরকে এখন র‌্যাব-৩ কার্যালয় হেফাজতে নেয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads