জনবিচ্ছিন্নদের গণমাধ্যম গ্রহণ করতে পারে না: নৌ প্রতিমন্ত্রী


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩০ অক্টোবর ২০২০, ২৩:৩৪,  আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২০, ২৩:৩৭

জনগণ যাদের গ্রহণ করেনা, জনগণ থেকে যারা বিচ্ছিন্ন গণমাধ্যম তাদের গ্রহণ করতে পারেনা বলে মন্তব্য করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অনেককে আমরা দেখতে পাচ্ছি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেই দায়িত্ব, দোষারোপ সরকারকে দিতে চান। সেটা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। গণমাধ্যমও গ্রহণ করতে পারে না।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজত জয়ন্তীতে ‘বঙ্গবন্ধু-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্পিকারের পক্ষে বর্ষসেরা রিপোর্টারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর রিপোর্টারদের সবচেয়ে বড় অ্যাওয়ার্ড; ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড উৎসর্গ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে বলেই, আজকে সকলেই, সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কথা বলতে পারেন। তাদের মতো করে সরকারের সমালোচনা করতে পারেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে বলেই সকলে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, কথাবার্তা জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেন। সেই কথাবার্তা আজকে জনগণ গ্রহণ করবে কি, করবে না, সেটা জনগণের বিষয়। জনগণ যদি গ্রহণ না করে, সেই দায়-দায়িত্ব সরকার নিতে পারেনা।

সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষ করে জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ পথচলার পথে জনগণের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। এত বাঁধা-বিপত্তি, এত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল পথ চলে নাই।

খালিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর ১৯ বার আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তিনি বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। তাকে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে। তাকে হত্যা করার জন্য বার বার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে খালিদ বলেন, তারপরও জনগণের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাজনীতি করেছেন বলেই আজকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আজকে পদ্মাসেতু আমাদের সামনে দৃশ্যমান। তিনি (শেখ হাসিনা) শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশকে একটি মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছেন।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষকে আজকে একটি ছাতার নিচে আসতে হবে। সেটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে কখনো বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কখনো মাথা উঁচু করে করে দাঁড়াতে পারেনা। আমাদের গর্ব এবং অহংকার-মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু। সে জায়গায় আজকে ডিআরইউ দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে সাংবাদিকবান্ধক উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা মহামারীর সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, অতীতে কোন সরকারপ্রধান বা রাজনৈতিক নেতা এভাবে দাঁড়াননি। তিনি (শেখ হাসিনা) বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামও ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ এর জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, ডিআরইউ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেমুল আলম বিপ্লব।

বঙ্গবন্ধু ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা: প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদপত্রের মুক্তিযুদ্ধ শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক সমকালের নিজস্ব প্রতিবেদক আবু সালেহ রনি, শিক্ষায় দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রায়হান এম চৌধুরী, স্বাস্থ্যে কালের কণ্ঠের আরিফুর রহমান, অনুসন্ধানী রিপোর্টে (উন্মুক্ত) প্রথম আলোর কামরুল হাসান, অর্থ-বাণিজ্যে ভোরের কাগজের মরিয়ম সেঁজুতি, সেবা খাতে বাংলা ট্রিবিউনের শাহেদ শফিক, ক্রীড়ায় নয়াদিগন্তের রফিকুল হায়দার ফরহাদ, শিল্প-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে জনকণ্ঠের মনোয়ার হোসেন, আইন ও মানবাধিকারে ইত্তেফাকের সমীর কুমার দে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার (টিভি ও রেডিও) সেবা খাতে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের মো. মাকসুদ-উন-নবী, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য যমুনা টেলিভিশনের থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি অনুষ্ঠানের ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন আহমেদ ও একই টিমের কাজী ইমতিয়াজ আল মমিন, অর্থ ও বাণিজ্য শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন এনটিভির হাসানুল আলম শাওন, স্বাস্থ্যে যমুনা টিভির সাজ্জাদ পারভেজ, নারী ও শিশু বিষয়ে নিউজ টোয়েন্টিফোরের আশিকুর রহমান শ্রাবণ।






ads