ডিবির জেরার মুখে ইরফান


poisha bazar

  • শাহীন করিম
  • ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৬

নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর ও হত্যার হুমকির মামলায় এবার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জেরার মুখে পড়েছেন সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর মো. ইরফান সেলিম। একই সঙ্গে রয়েছেন তার দেহরক্ষী মো. জাহিদুল মোল্লা ও হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দীপু।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই এই তিনজনকে জিজ্জাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক। তবে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায়ও ইরফান ও জাহিদুলকে সাত দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ওসি মওদুত হাওলাদার।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম, সহযোগী জাহিদ ও দীপুকে কড়া পুলিশ পাহারায় গতকাল দুপুরের দিকে ধানমণ্ডি থানা থেকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এর আগে ধানমণ্ডি থানার ওই মামলায় বুধবার ইরফান ও জাহিদকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় গ্রেফতার আরেক আসামি হাজী সেলিমের প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দীপুকেও আগেই তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। গতকাল দুপুরে মামলার তিন আসামিসহ মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন পুলিশের ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহিল কাফি।

এই তথ্য নিশ্চিত করে ডিবি রমনা শাখার ডিসি এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘ইরফান,জাহিদুল ও দীপুকে বিকেল থেকেই কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। এই তিন আসামি কেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ খানকে মারধরের মতো ঘটনা ঘটল, কেন তাকে হত্যাচেষ্টা ও হুমকি দেয়া হলো- তা বিস্তারিত জানতে তিনদিন টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।

ডিসি আরো বলেন, এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে ইরফানের বাসা থেকে অনেকগুলো অবৈধ বিদেশি অস্ত্র ও ওয়াকিটকি পাওয়া গেছে। এসব অস্ত্র ও ওয়াকিটকির বিষয়ে যে অভিযোগগুলো আছে তা খতিয়ে দেখছি আমরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

গত রবিবার রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডির কলাবাগন ক্রসিংয়ে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়। ইরফান সেলিমকে বহনকারী এমপি স্টিকার লাগানো গাড়ি দিয়ে ওই নৌবাহিনী কর্মকর্তার মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। পরদিন সোমবার সকালে জাতীয় সংসদের সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দিপু, দেহরক্ষী মো. জাহিদ ও গাড়ি চালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ভুক্তভোগী ওয়াসিফ আহমদ খান।

ওইদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর চকবাজারের ২৬, দেবীদাস ঘাট লেনে হাজী সেলিমের ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ী’তে অভিযান চালান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। সোমবার সন্ধ্যার পর অভিযান শেষে অবৈধ ওয়াকিটকি ও মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর রাতেই দুজনকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিন সন্ধ্যায় র‌্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, ইরফান সেলিমের বাড়ি থেকে লাইসেন্সবিহীন বিদেশি অস্ত্র, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দেহরক্ষী জাহিদের কাছ থেকে ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে ও বিভিন্ন ধরনের ৩৮ থেকে ৪০টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে।

ওই বাসায় টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা আশিক আরো বলেন, ‘আমরা তাদের কাছ থেকে গুলি, হাতকড়া, একটি ড্রোন এবং কন্ট্রোল রুম থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ভেরি হাই সিকিউরিটি সেট (ভিএইচএস) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এটা ওয়াকিটকির একটি আধুনিক সংস্করণ।

এ ছাড়া ওই বাসায় টর্চার সেলে হাতুড়ি, ছুরি, হকিস্টিক ও দড়ি পাওয়া যায়। পুরান ঢাকায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে মেজো ছেলে ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজায় কারাগারে যাওয়ায় ইতোমধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

 






ads