বরখাস্ত হলেন ইরফান সেলিম


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৩০,  আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৪১

অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবার) তাকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর, বিদেশি মদ সেবন, অবৈধ অস্ত্র রাখা, অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও বিভিন্ন অপরাধে মামলা হওয়ায় স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২ (৩৭) এবং ও ১৩ (১) (খ) (ঘ) অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ এবং অসদাচরণের শামিল।

তাই অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগে স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর ১২ উপধারা (১) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতা বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর পদ থেকে ইফরান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করার হলো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুত্র এবং নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা।

আরো পড়ুন : ইরফানকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

এর আগে সোমবার হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, মদ, বিয়ার ও ওয়া‌কিট‌কিসহ বিপুল প‌রিমাণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম উদ্ধার ক‌রে র‌্যাব। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে ইরফানকে ৬ মাস করে ১ বছরের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম। এ সময় ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদুলকে ইসলামেরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গত রোববার রাতে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলেসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এরফানের গাড়ি ওয়াসিফকে ধাক্কা মারার পর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনি মেরে ফেলব’ বলে কিল-ঘুষি মারেন এবং আমার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

‘তারা আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। পরে আমার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডি থানার ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

মামলায় মোট পাঁচটি ফৌজদারি অপরাধের ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধগুলো হলো- দণ্ডবিধি ১৪৩ অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশের সদস্য হয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলকভাবে বল প্রয়োগ করা, ৩৪১ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, ৩৩২ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আহত করা, ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার ওপর বল প্রয়োগ করা এবং ৫০৬ ধারায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার।

এ বিষয়ে ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ওই গাড়িটি সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের। ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ইরফান সেলিম, নিরাপত্তারক্ষীসহ ৫-৬ ছিলেন। এ ঘটনায় ইরফান সেলিমকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেছেন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ।






ads