ইরফানের মামলার তদন্তে কেউ প্রভাব খাটাতে পারবে না: ডিএমপি কমিশনার

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৫৫

নৌবাহিনীর অফিসারকে মারধরের ঘটনায় এমপি হাজী সেলিমের পুত্র কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত পুলিশ প্রভাবমুক্ত হয়ে করছে। এখানে প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তেজগাঁও থানা কমপ্লেক্সে ভিক্টিম রেসপন্স ও হটলাইন নম্বর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখানে প্রভাব থাকার কোন প্রশ্ন নেই। চাইলে কেউ প্রভাব খাটাতে পারবে না। আমরা দ্রুততম সময়ে এই মামলার তদন্ত করব ও অভিযোগপত্র জমা দেবো।

‌‘আমরা মামলাটি গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। সচরাচর হত্যা মামলার মতো ঘটনা থাকলে ঘটনাস্থল উপ-পুলিশ কমিশনার পরিদর্শন করেন না। এই ঘটনার পরপরই রমনা বিভাগের ডিসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।’- যোগ করেন ডিএমপি কমিশনার।

এর আগে ডিএমপি কমিশনার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স এবং হটলাইন নম্বর (০১৩২০-০৪২০৫৫) চালু করেন। এখন থেকে এই নম্বরে নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোড়গ করলে সঙ্গে সঙ্গে ডিএমপির রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সহযোগিতা করবে।

গত সোমবার হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, মদ, বিয়ার ও ওয়া‌কিট‌কিসহ বিপুল প‌রিমাণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম উদ্ধার ক‌রে র‌্যাব। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে ইরফানকে ৬ মাস করে ১ বছরের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম। এ সময় ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদুলকে ইসলামেরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গত রোববার রাতে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলেসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এরফানের গাড়ি ওয়াসিফকে ধাক্কা মারার পর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনি মেরে ফেলব’ বলে কিল-ঘুষি মারেন এবং আমার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

‘তারা আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। পরে আমার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডি থানার ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

মামলায় মোট পাঁচটি ফৌজদারি অপরাধের ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধগুলো হলো- দণ্ডবিধি ১৪৩ অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশের সদস্য হয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলকভাবে বল প্রয়োগ করা, ৩৪১ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, ৩৩২ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আহত করা, ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার ওপর বল প্রয়োগ করা এবং ৫০৬ ধারায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার।

এ বিষয়ে ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ওই গাড়িটি সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের। ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ইরফান সেলিম, নিরাপত্তারক্ষীসহ ৫-৬ ছিলেন। এ ঘটনায় ইরফান সেলিমকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেছেন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads