রাজধানীতে হঠাৎ মশার উপদ্রব, ডেঙ্গুর শঙ্কা


poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৮

দেশে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই হাতছানি দিচ্ছে ডেঙ্গু। কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীজুড়ে হঠাৎ করে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বস্তি থেকে শুরু করে অভিজাত ফ্ল্যাটবাড়িসহ সব জায়গায় সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হয় মশার উৎপাত। ফলে প্রতিদিনই ক্রমাগতভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

গত এক দিনেই নতুন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ রোগী। এ নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩০ জন রোগী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৫৭৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে একজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রাণও হারিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়ার পর প্রচুর কাজ হয়েছে। চলতি বছর ডেঙ্গু মহামারী যাতে দেখা না দেয় সে জন্য বছরের শুরু থেকেই সতর্ককতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যার ফলে এখনো ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সেভাবে বাড়েনি। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রায় ৯৯ ভাগ কম।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১২ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া ১২ জনের মধ্যে ঢাকায় রয়েছেন ৯ জন। বাকি তিনজন ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন ৩০ রোগীর মধ্যে ২৫ জন ঢাকা বিভাগে ও বাকিরা অন্য বিভাগে ভর্তি রয়েছেন।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৫৭৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৩৯ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে এখন পর্যন্ত চারটি মৃত্যুর তথ্য প্রেরিত হয়েছে। আইইডিসিআর দুটি ঘটনার পর্যালোচনা সমাপ্ত করে একটি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে।

সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসওয়ারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা যথাক্রমে ১৯৯ জন, ৪৫ জন, ২৭ জন, ২৫ জন, ১০ জন, ২০ জন, ২৩ জন, ৬৮ জন, ৪৭ জন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাস মশার উপদ্রব না থাকায় দুই মেয়রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন নগরবাসী। মশা নিয়ন্ত্রণে উৎপত্তিস্থলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কর্মীদের মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যেত। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ মশার ওষুধ ছিটাতে কাউকে দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এবং মশার উৎপত্তিস্থলে মশার ওষুধ না ছিটানোর ফলে মশার উপদ্রব বেড়েছে।

রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডা এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে বাস করে জান্নাতুন নাঈম নাবিলা। তিনি বলেন, গত কিছুদিন আগ পর্যন্ত মশার এত উপদ্রব ছিল না। কিন্তু গত ২ সপ্তাহ থেকে মশার উপদ্রব এত পরিমাণে বেড়েছে যে বাসায় থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। তাই দ্রুত মশক নিধনে কার্যকরী প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

 






ads