ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হচ্ছে

- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০৯,  আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৯:১২

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড রেখে জারি করা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হচ্ছে। এ জন্য ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধিত) আইন, ২০০০’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, বিশেষ করে সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও নোয়াখালিতে এক নারী বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার পর ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে দেশ। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্রসমাজ, ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দাবির প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ সংশোধন করে সরকার। গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় আইনটি অনুমোদন হওয়ার পর ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় তখন আইন সংশোধনের পর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়।

আগামী ৮ নভেম্বর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তাই অধ্যাদেশটি আইনের পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হলো।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অধ্যাদেশটিই আজ আইনের খসড়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত ভেটিং করে দেয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশন না থাকা অবস্থায় যদি কোনো অর্ডিন্যান্স হয় তাহলে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনই সেটি উপস্থাপন করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অধ্যাদেশ হিসেবে যেটা আনা হয়েছিল সেটাই আজ আইনের খসড়া হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতির জারি করা নতুন অধ্যাদেশে যা রয়েছে-

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, শাস্তি ইত্যাদি প্রসঙ্গে ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি এতদিন ছিলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দল বেধে ধর্ষণের ঘটনায় নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা আহত হলে, সর্বোচ্চ শাস্তি ছিলো মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেই সঙ্গে উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম এক লক্ষ টাকা করে অর্থ দণ্ডের বিধানও রয়েছে।

সেই আইনেই পরিবর্তন এনে ধর্ষণ প্রমাণিত হলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও থাকছে।

প্রথমে ২০০০ সালে জারি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩৪টি ধারার মধ্যে ১২টি ধারাতেই বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান ছিলো। তবে পরবর্তীতে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ ও মানব পাচার সংক্রান্ত দুইটি আইনের অংশ আলাদা হয়ে যাওয়ার পর এই আইন থেকে বাদ দেয়া হয়। ফলে এই আইনের সাতটি ধারায় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বহাল থাকে।

নতুন অধ্যাদেশে ৯ (১) ধারাটি সংশোধন করে যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনা হয়েছে। এর আগে এই ধারায় বলা হয়েছিল, যদি কোনও পুরুষ নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অধ্যাদেশে ৮ নং ধারার ৩২ সংশোধন করে ‘অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষা’ শব্দের পরিবর্তে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং ‘অপরাধের শিকার ব্যক্তির মেডিকেল পরীক্ষা’ প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে যিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তার মেডিকেল পরীক্ষার পাশাপাশি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারও মেডিকেল পরীক্ষা করাতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads