করোনায় সামনে আরও যুদ্ধ আছে, সতর্ক থাকার পরামর্শ


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২০:০৫,  আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৩

করোনায় ‘হতবিহ্বল’ হয়ে পড়া বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে উঠতে পারলেও সামনে ফের সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গ্র্যান্ড বল রুমে সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক সেমিনার তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শহীদুল্লাহ বলেন, শুরুতে পৃথিবীর অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশও ‘হতবিহ্বল’ হয়ে পড়েছিল। তবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ‘সামাল দিয়েছে’। সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, তবে আগামীতে সংক্রমণের সম্ভাব্য ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ এর জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধ সামনে আছে। সরকার নানা পদক্ষেপ নেয়ায় এখন সংক্রমণের হার এবং মৃত্যু দুটোই কমেছে। তবে এখনও শৈথিল্য দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। নিজেদের সুরক্ষিত রেখে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে, সেবা বন্ধ রাখা যাবে না।

আসন্ন শীতে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে-এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার প্রধানের নির্দেশনার পর রোডম্যাপ ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার কথা বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ডা. শহীদুল্লাহ বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা কবে আসবে তা কেউ জানে না। কোনো ভ্যাকসিন প্রোডাকশনে যায়নি। কেউ বলে না যে এটা এক বছর না দুই বছরে পাওয়া যাবে। সুতরাং সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

“মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা- এগুলো কোনো রকেট সায়েন্স নয়। এই তিনটি কাজ করতে পারলে আমি মনে করি আমরা সেকেন্ড ওয়েভ থেকে হয়তো দূরে থাকব।"- যোগ করেন ডা. শহীদুল্লাহ।

সেমিনার শেষে স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ জাহিদ মালেক জানান, করোনাভাইরাসের যে ভ্যাকসিন দ্রুত এবং কম দামে পাওয়া যাবে সেটাই বাংলাদেশে আনা হবে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা নিয়ে আমরা কাজ করছি। অল্প দিনের মধ্যেই জানা যাবে আমরা করোনার কোন ভ্যাকসিনটি নিতে যাচ্ছি, নিতে পারব। এটাও মনে রাখতে হবে, যে ভ্যাকসিনটি সুলভমূল্যে পাওয়া যাবে, তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে এবং এই দেশে ভ্যাকসিনটির সক্ষমতা মিল রেখে ভ্যাকসিনটি আনা হবে।

গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্লোব বায়োটেকের টিকাটি ইতিমধ্যে ট্রায়াল-২ শেষ করেছে বলে জানা গেছে। এটি যদি কার্যকর হয়, তবে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। কোন ভ্যাকসিনটি নেয়া হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কোনো কোনো উৎপাদক বলছে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারির দিকে হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মে-জুনের দিকে ভ্যাকসিন আসতে পারে।

সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের (এসওএসবি) সভাপতি এ এইচ এম তৌহিদুল আলমের সভাপতিত্ত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বি এম খুরশীদ আলম, এসওএসবি-এর সাবেক সভাপতি জুলফিকার রহমান খান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি এম ইকবাল আর্সলান, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) মো. মোজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সংসদ সদস্য মো. আবদুল আজিজ, সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এ জেড এম মোসতাক হোসেন, স্বাচিপ সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন এসওএসবি-এর সাধারণ সম্পাদক মো. নূর হোসেন ভূঁইয়া।

গতবছর ডিসেম্বরে চীন থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নতুন এই করোনাভারাসে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে চার কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, মৃত্যু হয়েছে ১১ লাখের বেশি মানুষের। বাংলাদেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ লাখ ৮৮ হাজারে, আর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৬৬০ জনের।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads







Loading...