যে কারণে লংমার্চে হামলা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪০

ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা বামপন্থী কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চে দুদফা হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লংমার্চে অংশ নেয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, শনিবার সকালে ফেনীর শহীদ মিনারে সমাবেশ করার সময় একপর্যায়ে সমাবেশে অংশ নেয়াদের কয়েকজনের ওপর স্থানীয় কয়েকজন হামলা চালায়। এরপর সমাবেশ স্থল থেকে কিছুটা দূরে গাড়িতে ওঠার সময় আমাদের বাসের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রায় প্রত্যেকটি বাস ভাঙচুর করা হয়, অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার বিষয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রতি।

তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম হাজারির চারটি প্ল্যাকার্ডে লংমার্চকারীরা লাল মার্কার দিয়ে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘ধর্ষকদের গডফাদার’, ‘রেপিস্ট’-এর মতো আপত্তিজনক কথা লিখায় স্থানীয় জনগণই ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে। হামলার সাথে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুশেন চন্দ শীল বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত কেউ নয়, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষই ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, তারা যেখানে সমাবেশ করছিল তার কাছে স্থানীয় সাংসদ নিজাম হাজারির চারটি প্ল্যাকার্ড রয়েছে, যেগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে। তাদের সমাবেশের লোকজন ঐ প্ল্যাকার্ডগুলোতে লাল মার্কার দিয়ে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘ধর্ষকদের গডফাদার’, ‘রেপিস্ট’-এর মতো আপত্তিজনক কথা লিখেছে।
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির ওপর এগুলো লেখা দেখে স্থানীয় জনগণই ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে। হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। সংঘর্ষের ঘটনা লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস’ এবং এর সাথে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আলমগীর হোসেন লংমার্চে অংশগ্রহকারীদের ওপর হামলার কথা স্বীকার করলেও ঐ ঘটনায় সর্বোচ্চ ‘চার- পাঁচজন’ আহত হয়েছেন বলে জানান। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত স্থানীয় এমপি সাহেবের প্ল্যাকার্ডের ওপর ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ লেখায় এমপি সাহেবের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

ওসি বলেন, প্রথম দফায় তেমন সংঘর্ষ না হলেও লংমার্চে অংশ নেয়া সদস্যরা যখন নিজেদের বাসের দিকে ফিরে যেতে থাকে তখন সাংসদের সমর্থকরা তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং তখন দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্ল্যাকার্ডের ওপর ঐ লেখাগুলো লংমার্চে অংশগ্রহণকারীরা পুলিশের সামনেই লিখেছেন বলে নিশ্চিত করেন আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেন, সমাবেশ চলাকালীন সময় পুলিশ সদস্যদের সামনেই তারা প্ল্যাকার্ডে লাল কালি দিয়ে লেখাগুলো লেখে। সেসময় পুলিশ তাদের নিষেধ করলেও তারা আগ্রাসী আচরণ করে।





ads







Loading...