ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে আসছে ৩ কোটি ভ্যাকসিন

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:০৭,  আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৬

মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দাপটে ইতোমধ্যে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে অক্সফোর্ডের তিন কোটি করোনা ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের জন্য কয়েকশ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, মেয়র মাহমুদ পারভেজ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদির ভূঁইয়া।

এর আগে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের শেষ দিন উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান।

এদিকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া সবশেষ তথ্যানুযায়ী, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৬৪৬ জনে। নমুনা পরীক্ষায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ২০৯ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন লাখ ৮৭ হাজার ২৯৫ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৬০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থতার সংখ্যা দাঁড়াল ৩ লাখ ২ হাজার ২৯৮ জনে।

করোনা শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০টি পরীক্ষাগারে ১১ হাজার ১২টি নমুনা সংগ্রহ ও ১১ হাজার ৫৭৩টি পরীক্ষা করা হয়। মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২১ লাখ ৫১ হাজার ৭০২টি।


অপরদিকে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার আবারো বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গত কিছুদিন ধরে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপিয়ান বিভাগের পরিচালক ডা. হানস ক্লুগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাসের প্রথম দফা সংক্রমণের সময়ের চেয়ে বর্তমানে মৃত্যুর হার পাঁচগুণ কম।

তার মতে, গত কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ তরুণদের মধ্যে কোভিড পজিটিভ হওয়ার হার বেড়েছে, যেই বয়সের মানুষের কোভিড সংক্রমণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এ কারণে সংক্রমণের হার বাড়লেও মৃত্যুর হার কমেছে বলে ধারণা প্রকাশ করেন হানস ক্লুগে।

তবে তিনি এই মন্তব্যও করেছেন যে, ইউরোপে কোভিড সংক্রমণের যে ধারা দেখা যাচ্ছে তা 'আশাবাদী হওয়ার মত নয়'। তার মতে, ইউরোপের দেশগুলোর সরকার যদি তাদের বিধিনিষেধ শিথিল করে দেয় তাহলে জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতিদিনের মৃত্যুর হার এবছরের এপ্রিলের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে যেতে পারে।

কিন্তু ৯৫% মানুষ যদি মাস্ক পড়ে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে তাহলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২ লাখ ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মি. ক্লুগে।

ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশে গত কিছুদিন ধরে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কোয়ারেন্টিন, সামাজিক দূরত্ব মানার মত বিষয়গুলোতে আবারো কড়াকড়ি করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads