করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩৫

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ হাজার ৬৪৬ জনে। নমুনা পরীক্ষায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ২০৯ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন লাখ ৮৭ হাজার ২৯৫ জনে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ২৩ জনের মধ্যে পুরুষ ১৮ এবং নারী ৫। সবাই হাসপাতালে মারা যান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৬০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থতার সংখ্যা দাঁড়াল ৩ লাখ ২ হাজার ২৯৮ জনে।

করোনা শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০টি পরীক্ষাগারে ১১ হাজার ১২টি নমুনা সংগ্রহ ও ১১ হাজার ৫৭৩টি পরীক্ষা করা হয়। মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২১ লাখ ৫১ হাজার ৭০২টি।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৮ দশমিক শতাংশ। রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৭৮ দশমিক ০৫ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৬ শতাংশ।

এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৩৪৫ (৭৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ) ও নারী এক হাজার ৩০১ জন (২৩ দশমিক ০৪ শতাংশ)।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৩ জনের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের দুইজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের চারজন এবং ১৫ জন।

বিভাগ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রামে চারজন, খুলনায় একজন, বরিশালে দুইজন এবং রংপুরে দুইজন রয়েছেন।

এদিকে বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস এ তথ্য জানিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনায় কমপক্ষে ১১ লাখ ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় একজনের মৃত্যু ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৯৮ জনের মৃত্যু এবং ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এর পরের অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬০ জনের মৃত্যু এবং ৫১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৬ জন আক্রান্ত, ভারতে ১ লাখ ১২ হাজার ১৬১ জনের মৃত্যু এবং ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৮ জন আক্রান্ত, মেক্সিকোতে ৮৫ হাজার ২৮৫ জনের মৃত্যু এবং ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ জন আক্রান্ত এবং যুক্তরাজ্যে ৪৩ হাজার ২৯৩ জনের মৃত্যু এবং ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬২২ জন আক্রান্ত হয়েছে।

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার আবারো বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গত কিছুদিন ধরে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপিয়ান বিভাগের পরিচালক ডা. হানস ক্লুগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাসের প্রথম দফা সংক্রমণের সময়ের চেয়ে বর্তমানে মৃত্যুর হার পাঁচগুণ কম।

তার মতে, গত কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ তরুণদের মধ্যে কোভিড পজিটিভ হওয়ার হার বেড়েছে, যেই বয়সের মানুষের কোভিড সংক্রমণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এ কারণে সংক্রমণের হার বাড়লেও মৃত্যুর হার কমেছে বলে ধারণা প্রকাশ করেন হানস ক্লুগে।

তবে তিনি এই মন্তব্যও করেছেন যে, ইউরোপে কোভিড সংক্রমণের যে ধারা দেখা যাচ্ছে তা 'আশাবাদী হওয়ার মত নয়'। তার মতে, ইউরোপের দেশগুলোর সরকার যদি তাদের বিধিনিষেধ শিথিল করে দেয় তাহলে জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতিদিনের মৃত্যুর হার এবছরের এপ্রিলের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে যেতে পারে।

কিন্তু ৯৫% মানুষ যদি মাস্ক পড়ে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে তাহলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২ লাখ ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মি. ক্লুগে।

ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশে গত কিছুদিন ধরে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কোয়ারেন্টিন, সামাজিক দূরত্ব মানার মত বিষয়গুলোতে আবারো কড়াকড়ি করা হয়েছে।

ফ্রান্স
করোনাভাইরোস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শনিবার থেকে প্যারিস সহ ফ্রান্সের আটটি শহরে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। আর তার একদিন আগে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে নতুন করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে।

বুধবার ফ্রান্সে নতুন কোভিড আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৩০,৬২১ জন, যা আগের দিনই ছিল ২২,৫৯১ জন।

ফ্রান্সের আটটি শহরে রাত ৯ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে শনিবার থেকে। অন্তত চার সপ্তাহব্যাপী এই সময়ের মধ্যে নাগরিকরা 'উপযুক্ত' কারণ ছাড়া বাইরে বের হতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন, দৈনিক নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৩ হাজারে নামিয়ে আনতে চান তিনি।

ইতালি
ফ্রান্সের মত ইতালিতেও বৃহস্পতিবার নুতন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। দেশটির দক্ষিণ কামপানিয়া অঞ্চলে এবং নেপলস শহরে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দুই সপ্তাহের জন্য।

চেক প্রজাতন্ত্র
ইউরোপে সর্বোচ্চ সংক্রমণের হার এই মুহূর্তে চেক প্রজাতন্ত্রে, সেখানে অক্টোবরে করোনাভাইরাসের নতুন সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রে স্কুল ও বার বন্ধ করে দেয়া হলেও সংক্রমণ বাড়ছে।

চেক সরকার রোগীদের জন্য প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করার কথা জানিয়েছে এবং বিদেশে কর্মরত চিকিৎসকদের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

জার্মানি
বৃহস্পতিবার নতুন ৬,৬৩৮ জন করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে জার্মানিতে, যা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে দৈনিক সংক্রমণের হিসেবে সর্বোচ্চ। জার্মানিতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বার এবং ক্লাব নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পর্তুগাল
বৃহস্পতিবার থেকে পর্তুগালে একসাথে পাঁচজনের বেশি জড়ো হতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি বিয়ে এবং ব্যাপটিজমের অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৫০ জন জড়ে হতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি।

এদিকে বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে বছরের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত অনেকটাই স্থবিরতা নেমে এসেছিল বিশ্ব অর্থনীতিতে। যার রেশ এখনো চলমান রয়েছে।

তবে করোনায় এখন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির প্রকৃত পরিসংখ্যান না জানা গেলেও একটি সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ওয়াশিংটনভিত্তিক এ পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির দাবি, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

শুধু তাই নয়, করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি সঙ্কুচিত হবে ৪.৪ শতাংশ। এর আগে গত জুনে আইএমএফ আশঙ্কা করেছিল, করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এ বছর সঙ্কুচিত হবে ৫.২ শতাংশ। তবে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে লকডাউন আংশিক প্রত্যাহারে অর্থনীতির ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে বলছে আইএমএফ। সংস্থাটি জানায়, মহামারীতে মৃতের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংস্থাটির শীর্ষ অর্থনীতিবিদ গীতা গোপিনাথ বলেন, কোভিড সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের বিষয়টি ক্রমশ দীর্ঘস্থায়ী, অসম ও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। করোনার মন্দায় লোকসানের পরিমাণ ২০২০-২১ সালে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার এবং ২০২০-২৫ সালে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িতে যাবে। যা মার্কিন অর্থনীতির চেয়েও আকারে বড়।

তিনি বলেন, সব দেশের জীবনযাত্রার মান কোভিড মন্দায় নেমে যাওয়ার কারণে উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই সংকট বিনিয়োগকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। অর্থনীতির ভারসাম্যে তৈরি করেছে সমস্যা।

উল্লেখ্য, করোনার প্রভাব এখন সারা বিশ্বেই স্পষ্ট। বড় বড় অর্থনীতির দেশ ইতোমধ্যে প্রবৃদ্ধি না হয়ে সংকোচনের দিকে এগুচ্ছে। সারাবিশ্বে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ সরকারি বেকার ভাতার জন্য আবেদন জানিয়েছে। প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...