‘বিনা প্রয়োজনে’ কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষেধ

‘বিনা প্রয়োজনে’ কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষেধ
- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০০

দেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোর ক্যাম্পাসে 'বিনা প্রয়োজনে' সর্ব সাধারণের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিকে মঙ্গলবার সব কলেজের অধ্যক্ষদের চিঠি দিয়ে এই নিষেধের কথা জানিয়ে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

চিঠিতে বলা হয়, 'কলেজ ক্যাম্পাসে বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।' এতে বলা হয়,'নিরাপত্তার স্বার্থে' এই পদক্ষেপ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়টি তুল ধরে চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং কলেজের সব সরকারি সম্পদ ও সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সচেষ্ট থাকতে হবে।

অধ্যক্ষদের নয় দফা নির্দেশনা দিয়ে জরুরিভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের জন্য 'বিশেষভাবে' অনুরোধ জানিয়েছে মাউশি।

কলেজ ক্যাম্পাসে জনসাধারণকে ঢুকতে বারণ করা ছাড়াও মাউশির অন্য নির্দেশনাগুলো হলো- ছাত্রাবাস বন্ধ রাখা ও ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে পুলিশ টহল জোরদার করা, প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকসহ সব প্রবেশপথে সার্বক্ষণিক পাহারা রাখা, প্রতিষ্ঠানে ভিজিল্যান্স টিম গঠন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে নিয়মিত পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করা, অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চালু রাখা, আঞ্চলিক পরিচালককে ক্লাস নেওয়ার তথ্য দেওয়া, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ মনিটরিং এবং অভিভাবকের সঙ্গে সংযোগ সাধন করা, শিক্ষার্থীদের স্বাস্ব্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া এবং কলেজের বিজ্ঞানাগার ল্যাব, আইসিটি ল্যাব, লাইব্রেরিসহ সরকারি সম্পত্তি ও নথি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে প্রাইভেট গাড়িতে করে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নববধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দু’জন।

এ ঘটনায় সিএমপি’র শাহপরান থানায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় ৬ আসামিকেই গ্রেফতার করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‍্যাব-৯। এছাড়াও মামলায় উল্লেখিত অজ্ঞাতনামা ৩ আসামির মধ্যে ২ আসামিই ধরা পড়েছে। এখন কেবল অজ্ঞাতনামা ১ আসামিকে হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

মানবকণ্ঠ/আরএস





ads