বনভূমিতে অনধিকার প্রবেশ করলেই সাজা


poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৫

বনভূমিতে কোনো ব্যক্তি সামাজিক বনায়ন করতে পারবে না, এমনকি এই ভূমি ব্যবহার করা যাবে না কৃষিকাজেও। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কেউ সংরক্ষিত বনে প্রবেশ কিংবা গবাদিপশুও চরাতে পারবে না।

এই নির্দেশনা না মেনে কেউ অনধিকার প্রবেশ করলেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার ও কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড হতে পারে। ১৯২৭ সালের বন আইন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গৃহীত বন আইন-২০১৯-এ এমন বিধান রাখা হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে নতুন এই বিলটি পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বনের কার্যক্রম স¤প্রসারণ, রক্ষা ও নিরাপত্তা বাড়াতে প্রায় শত বছরের আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে বনজদ্রব্য স্থানান্তর এবং কাঠের ওপর শুল্ক আরোপ আরো সহজ হবে। নতুন আইনে বনে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কোনো গবাদিপশু বনে প্রবেশ করে বনের ক্ষতি করলে মালিকের জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে।

এ বিধানের আলোকে প্রতিটি হাতির জন্য ৫ হাজার টাকা, মহিষ বা উটের জন্য ১ হাজার টাকা, ঘোড়া, খচ্চর, বলদ ও গাভীর জন্য ৫০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়া জাতীয় প্রাণীর জন্য ২০০ টাকা হারে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বন অপরাধের সঙ্গে জড়িত আছে সন্দেহ হলে তাদের গ্রেফতারের পর মুচলেকা দিয়ে মুক্তির বিধানও রাখা হচ্ছে নতুন আইনে।

এদিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অপরাধের বাইরে বন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপরাধের বিষয়েও নতুন আইনে দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো কর্মকর্তা বন আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী কাউকে হয়রানিমূলকভাবে এবং নিষ্প্রয়োজনে, কোনো সম্পত্তি জব্দ করেন তাহলে ওই কর্মকর্তা সর্বোচ্চ এক বছর এবং সর্বনিম্ন এক মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং অন্যূন ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

প্রস্তাবিত নতুন আইনে বন অধিকার অর্জনে বাধা-সংক্রান্ত বিধানের ৫ ধারায় বলা আছে, ‘বিদ্যমান বনের উত্তরাধিকার বা সরকারের লিখিত অনুদান বা চুক্তি ব্যতীত বা প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সময় কোনো ব্যক্তির কোনো অধিকার বর্তানো থাকিলে সেটা ব্যতীত কেহ অন্য কোনো অধিকার অর্জন করিতে পারিবেন না। এসব বনভূমি কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নূতনভাবে পরিষ্কার করা যাইবে না।’

আইনের ৩০ ধারা মতে, ‘যেকোনো ভূমি যা সরকারি সম্পত্তি বা সরকারের স্বত্বাধিকার রহিয়াছে এবং সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বনায়ন, সংরক্ষণ বা ব্যবস্থাপনার জন্য মালিকের স্বেচ্ছায় লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সরকারকে অর্পণ করা ভূমিতে সামাজিক বনায়ন প্রতিষ্ঠা করা যাইবে না। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি সংক্রান্ত অপরাধ বা ক্ষতি অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং এটা লঙ্ঘনের জন্য অনধিক ৬ মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হইবে।’

আর কোনো সংরক্ষিত বন থেকে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কাঠ অপসারণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর ও অন্যূন ৬ মাসের জেল এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ও সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে অপরাধীকে।

প্রস্তাবিত আইনের ৪০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির ক্ষেত্রে ভ‚মি ভাঙা, কীটনাশক ব্যবহার, খাড়া পাহাড় থেকে ফসল আহরণ বা অন্যবিধ বন ব্যবস্থাপনা কার্যাদি, যাহা সম্পত্তি, নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বা ভূমির উৎপাদনী ক্ষমতা, দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক ঐতিহ্য বা প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য হুমকি তাহা বন্ধ ও সীমিত করার জন্য সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন।’

আইনের ৫৫ ধারার (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যে বনজ সম্পদ সম্পর্কে অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া বিশ্বাস করা হয় সেটা যদি সরকারি সম্পত্তি হয় এবং অপরাধী অজ্ঞাত হয়, সেই ক্ষেত্রে যথাশিগগির সম্ভব অফিসার, তাহার ঊর্ধ্বতন অফিসারকে পরিস্থিতি জানাইয়া একটি প্রতিবেদন দিতে হইবে।’

এছাড়া আরো অনেক বিধান যুক্ত করে বন সংরক্ষণ আইনটিকে যুগোপযোগী করতে সরকার কাজ করছে বলে জানা গেছে।

 





ads