সীমান্তহত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে বিএসএফ

সীমান্তহত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবে বিএসএফ
- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক রাকেশ আস্তানা। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় যৌথ টহল বাড়ানো, জনসচেতনতা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ করে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সম্মেলন শেষে তিনি এ কথা জানান। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতর পিলখানায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ সম্মেলন শুরু হয়।

সীমান্তহত্যাকে অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ বিষয়ে বিজিবির সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে ‘নন লিথ্যাল’ (প্রাণঘাতী নয় এমন) অস্ত্র ব্যবহারে আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। একেবারে প্রাণ সংশয়ে না পড়লে লিথ্যাল অস্ত্র ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উভয় পক্ষই সীমান্ত অপরাধ দমনে এবং আন্তর্জাতিক সীমানার অলঙ্ঘনীয় তা বজায় রাখতে সীমান্তে অতিরিক্ত সর্তকতা অবলম্বন করার আশ্বাস দিয়েছে।

মানবপাচার ও অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফ সম্মত হয়েছে। যার যার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মানবপাচারে ক্ষতিগ্রস্তদের যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার ও পুনর্বাসনের সুবিধা পেতে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক সীমানার কাঁটাতারের বেড়া কেটে অপসারণ করা ও বেড়ার ক্ষয়ক্ষতি রোধে যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং নিয়মিত যৌথ টহল চালিয়ে যাবে।

মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করতে এবং একে অপরের সহযোগিতায় তাদের হস্তান্তর ও গ্রহণ ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে। উভয়পক্ষই পূর্ব অনুমোদন ছাড়া ১৫০ গজের মধ্যে কোনও ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়া বন্ধ থাকা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ গুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিএসএফ মহাপরিচালক সন্দেহভাজন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজিবি ও বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনীর গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ধ্বংস করতে বিজিবি অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। বিজিবি মহাপরিচালকের থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কোন ক্যাম্প বা আস্তানা নেই। বাংলাদেশ কখনও তার ভূমি কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অন্য কোনও রাষ্ট্রের বিশেষ করে ভারতের কোনও শত্রুপক্ষকে ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। ভবিষ্যতেও দেবে না।

তিনি আরও জানান, নতুন ডিজাইনের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ না করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিজিবি এয়ার উইংয়ের দু’টি হেলিকপ্টারের অধিকতর ও ট্রেনিং অপারেশনাল ফ্লাইটের বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালককে অবহিত করেন বিজিবি মহাপরিচালক। যেকোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে তাকে তার বাহিনীর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত অবহিত করার অনুরোধ জানান।

সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালকরা ও বিজিবি সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট স্টাফ অফিসারগণ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে বিএসএফ সদরদফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন।

সম্মেলন শেষে আজই (১৯ সেপ্টেম্বর) বিএসএফ প্রতিনিধিদল ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনে যোগ দিতে তারা গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads