আল্লামা শফীর জানাজায় অংশ নিতে হাটহাজারীতে জনস্রোত

আল্লামা শফীর জানাজায় অংশ নিতে হাটহাজারীতে জনস্রোত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৭,  আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০২

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও শতবর্ষী প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজা আজ শনিবার বেলা ২টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় অংশ নিতে হাটহাজারীতে জনস্রোত দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফজরের পর থেকে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ হাটহাজারী মাদরাসা ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়িসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুল আলেম ও শিক্ষার্থীরা জানাজায় অংশ নিতে এখানে জমায়েত হচ্ছেন। যানজট এড়াতে ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল সীমিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগীরা চট্টগ্রাম শহর থেকে হেঁটেই হাটহাজারীর দিকে রওনা দিয়েছেন।

হাটহাজারী মাদরাসার দক্ষিণ গেটে দিয়ে শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ছাত্ররা আল্লামা শফীকে শেষবার দেখার সুযোগ পাবেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেষবারের মতো আল্লাম শফীকে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর শাহ আহমদ শফীর মরদেহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। এর আগে ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে তার মরদেহ বহনকারী গাড়িটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

ইতোমধ্যে জানাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা শেখ আহমদ।

বেলা ২টায় জানাজা শেষে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বায়তুল আতিক জামে মসজিদের সামনের কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

হাটাহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমীন জানান, এলাকা লোকে লোকারণ্য। একারণে বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে আমরা বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে কেউ কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে।

মোহাম্মাদ রুহুল আমীন বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সব প্রস্তুতিও স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে চলেছে।

জানা গেছে হাটহাজারীর বাইরেও ফটিকছড়ি ও পটিয়াতেও বিজিবি মোতায়েন করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, শতবর্ষী প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে আহমদ শফীর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ৮ নম্বর বেডে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন‌্য শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক‌্যাল কলেজ মাঠ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

তখন হেফাজত ইসলামের নেতারা জানিয়েছিলেন, হুজুরের বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, বমি ও অস্বাভাবিকভাবে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিসের মাত্রাও বেড়েছিল। তিনি খাবার খাচ্ছিলেন না। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নিয়ে আসা হয়।

শাহ আহমদ শফীর জন্ম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম বরকম আলী, মা মোছাম্মাৎ মেহেরুন্নেছা বেগম। আহমদ শফীর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তাঁর বড় ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ পাখিয়ারটিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক। ছোট ছেলে আনাস মাদানি হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক।

আহমদ শফীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসায়। এরপর পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদ্রাসা) লেখাপড়া করেন। ১৯৪০ সালে তিনি হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় যান, সেখানে চার বছর লেখাপড়া করেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে ১১ এপ্রিল ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে এমএ (আরবি-ইসলামিক স্টাডিজ)-এর সমমান ঘোষণা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি, নাতনি রয়েছে। আল্লামা আহমদ শফী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, আল হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতি।

১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন আহমদ শফী। এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি ওই পদে ছিলেন। ছাত্রদের বিক্ষোভের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির সভায় আহমদ শফী মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালকের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর পরপরই মাদ্রাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহমদ শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহমদ শফী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads